এক থ্রোতে ভাঙল দুই প্রান্তের উইকেট, আউট রাসেল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আগের বলেই দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে আভাস দিলেন ঝড়ের। এরপর সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু হয়ে গেলেন আউট। নিজেকে ঠিক কী বলে বোঝাবেন আন্দ্রে রাসেল? তিনি আউট হলেন ক্রিকেটের বিরল এক দৃশ্যের মঞ্চায়ন করে।

শুক্রবার এমনই এক অবিশ্বাস্য দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ম্যাচের ১৫তম ওভারের শেষ বল। শর্ট থার্ডম্যানে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিতে গিয়েছিলেন মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার ক্যারিবিয়ান তারকা রাসেল। দ্রুততার সঙ্গে ফিল্ডিং করে স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভাঙেন খুলনা টাইগার্সের শেখ মেহেদী হাসান। অপর প্রান্তের ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ পৌঁছান ঠিক সময়েই। তাই বেঁচে যান ঢাকা দলের অধিনায়ক।

কিন্তু বল স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেট ভেঙে দিক পাল্টে চলে যায় অপর প্রান্তে। ঝুঁকি নেই ভেবে কিছুটা নির্ভারভাবেই ছুটছিলেন রাসেল। কিন্তু অবাক কাণ্ড ঘটিয়ে বল ভাঙে নন স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেটও। তখন মাথায় হাত রাসেলের! তড়িঘড়ি করে ব্যাট নামান ঠিকই। ততোক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।

স্বাভাবিকভাবেই উল্লাসে মাতে খুলনার খেলোয়াড়রা। একে বোনাস উইকেট। তার উপর উইকেটটা যে বিধ্বংসী রাসেলের! বিপিএলের গত মৌসুমেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তারকা হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা। এদিন প্রতিপক্ষের বড় ক্ষতি করার আগেই তাকে ছাঁটাই করে ফেলেন মেহেদী।

অথচ মেহেদীর উদ্দেশ্য ছিল স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেট ভাঙা। ভাঙেনও। কিন্তু বল স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেট ভেঙে নন স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেটও ভেঙে ফেলে। সম্ভাবনাময় ইনিংসের অপমৃত্যু হওয়ায় রাসেল হাসতে হাসতেই মাঠ ছাড়েন। হয়তো তখন আপন মনে বলেও ওঠেন, 'দুর্ভাগ্য একেই বলে!'

রাসেল আউট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শেষ দিকে রানের গতি কিছুটা কমেছে ঢাকার। তবে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান করতে সমর্থ হয় দলটি। রাসেল আউট হওয়ার পর স্লগ ওভারের শেষ পাঁচ ওভারে আসে ৫৮ রান।