করোনা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিপিএলের পথচলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টুর্নামেন্টের একদিন আগেও কোভিড-১৯ পরীক্ষায় মিলছে আক্রান্তের সংখ্যা। পজিটিভ হওয়া ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফদের আলাদা করে এরমধ্যেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাকি কাজ। টুর্নামেন্টের বাকি দিনগুলোতেও বাড়তে পারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তবে করোনা থাবায় কোন কিছু আর থামার কারণ দেখছেন না সাকিব আল হাসান। বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিল সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকও বলছেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও বিকল্প উপায় ভেবে রেখেছেন তারা।

করোনা অনিশ্চয়তা এড়িয়ে শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর অষ্টম আসর। প্রস্তুতির ঘাটতি, উইকেটের আচরণ নিয়ে সংশয়, ডিআরএস না থাকা মিলিয়ে অনেকগুলো বিষয় থাকলেও করোনা অনিশ্চয়তা মনোযোগ সরিয়ে দিয়েছিল বাকি সব কিছু থেকে।

গত মঙ্গলবার প্রথম দিনের করোনা পরীক্ষাতেই মিলে চারজনের আক্রান্তের খবর। যাতে ছিলেন ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফরা। পরদিনও হয় আরেক দফা পরীক্ষা। তাতেও আছে আক্রান্তের খবর। বৃহস্পতিবার  টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিনও ছিল না ব্যতিক্রম। তবে এবার বিসিবি আর আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ করছে না। আতঙ্ক না ছড়িয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার দিকেই মন তাদের।

এসব পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারছেন ক্রিকেটাররাও। করোনা নিয়ে না ভেবে সামনের পথ চলার কৌশল ঠিক করার দিকেই বেশ মন দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব,  'এমন একটা পরিস্থিতি এসে গেছে যেখানে আমাদের বুঝে বুঝে চলা উচিত। কাজেই প্রতিটি মানুষের উপর দায়িত্বটা দিয়ে দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ এরকমভাবে (সব থামিয়ে) আসলে খুব বেশি দিন টিকে থাকা সম্ভব না।  চেষ্টা করেও তো দেখাও হয়েছে।  আসলে খুব বেশি একটা সফল কেউ হতে পারেনি। তো আমার কাছে মনে হয় এটা নিয়েই আমাদের চলা উচিত।'

মিডিয়া সেন্টারের সামনে স্পন্সর হিসেবে বিবিএস ক্যাবল ও ওয়ালটনের নাম ঘোষণার পর মল্লিক জানান, আরও আক্রান্ত হলেও যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা করে রেখেছেন তারা,  'আমরা যেটা করছি কেউ যদি আক্রান্ত হয় তার বিকল্প নিচ্ছি। আবার এখন আক্রান্ত হলেও উপসর্গ এত প্রকট নয়। ৫-৬ দিন পর আবার পরীক্ষা করলেই নেগেটিভ ফল পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে নেগেটিভ এলে ওই খেলোয়াড়কে খেলায় ফেরানো হবে।' 

'একই অবস্থায় কিন্তু পুরো দুনিয়া। আপনি যদি বিদেশি লিগগুলো দেখেন তারাও এভাবেও চলছে। আমরা যেটা করছি টোকিও অলিম্পিকের করোনা গাইডলাইনের আদলে সব চালিয়ে নিচ্ছি।'

এবার বিপিএলে অংশ নিচ্ছে ছয় দল। মিনিস্টার ঢাকা, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, সিলেট সানরাইজার্স, ফরচুর বরিশাল, খুলনা টাইগার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স খেলবে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে। সেরা চার দল উঠবে প্লে অফে। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে এক কোটি টাকার প্রাইজমানি, রানার্সআপ দল পাবে ৫০ লাখ টাকা।

শুক্রবার টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে দুপুর দেড়টায়। প্রথম ম্যাচে সাকিবের বরিশাল লড়বে মেহেদী হাসান মিরাজের চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মিনিস্টার ঢাকার প্রতিপক্ষ খুলনা টাইগার্স।

শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন প্রথম ম্যাচ শুরু হবে দুপুর সাড়ে ১২টায়। দ্বিতীয় ম্যাচ শুরুর সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়। খেলা দেখা যাবে টি-স্পোর্টস ও গাজী টিভিতে।

প্রথম চারদিনে আট ম্যাচ পর খেলা যাবে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে আট ম্যাচ। খেলা হবে সিলেটে। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তিন দিনে রাখা হয়েছে ছয় ম্যাচ।