মিরাজের ঘূর্ণি থামিয়ে জিতল সাকিবের বরিশাল
ব্যাটারদের ব্যর্থতায় পুঁজিটা বড় ছিল না চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। তবে সাদামাটা পুঁজি নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ঘূর্ণির মায়াজালে লড়াই জমিয়ে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু সতীর্থ বোলারদের ব্যর্থতায় শেষ রক্ষা করতে পারেননি। জয় পায় ফরচুন বরিশালই।
শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ফরচুন বরিশাল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৫ রান করে চট্টগ্রাম। জবাবে ৮ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় সাকিব আল হাসানের দল।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বরিশালের। দলীয় ৩ রানেই নাজমুল হোসেন শান্তকে সরাসরি বোল্ড করে দেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর দলীয় ২৮ রানে বরিশাল অধিনায়ক সাকিবকেও বোল্ড করে দেন তিনি।
এরপর তৃতীয় উইকেটে তৌহিদ হৃদয় ও চতুর্থ উইকেটে ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে দুটি ছোট ছোট জুটিতে দলকে গিয়ে নিয়ে যান আরেক ওপেনার সৈকত আলী। কিন্তু ১৫তম মিনিটে ফের বল হাতে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেন মিরাজ। এ দুই সেট ব্যাটারকে আউট করে দেন পরপর দুই বলে। ফলে চাপে পড়ে যায় বরিশাল।
সে চাপ আরও বাড়িয়ে তোলেন সালমান হোসেন। মিরাজের সেই ওভারের শেষ বলে কভার পয়েন্টে ঠেলে রান নিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে রান ছিল না। তড়িৎ গতি বল ধরে স্টাম্প ভাঙেন আফিফ হোসেন। তাতে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছিল চট্টগ্রাম।
তখন ২৪ বলে শেষ ৪ উইকেটে ৩০ রান প্রয়োজন ছিল বরিশালের। কিন্তু ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি চট্টগ্রাম। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর করা ১৭তম ওভারে ১৮ রান তুলে নেন জিয়াউর রহমান ও ডোয়াইন ব্রাভো। আর শরিফুল ইসলামের করা পরের ওভারে ৯ রান আসলে সহজ হয়ে যায় ম্যাচ। ৮ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত হয় বরিশালের।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন সৈকত। ৩৫ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন এ ওপেনার। শেষ দিকে জিয়া কার্যকরী ১৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। ব্রাভো করেন অপরাজিত ১২ রান। সবচেয়ে বড় কথা সপ্তম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ৩৪ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটার।
চট্টগ্রামের পক্ষে ৪ ওভার বল করে ১৬ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নেন মিরাজ।
এর আগে দিন বোলিংয়ের সূচনাটা নাঈম হাসানকে দিয়ে শুরু করেন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব। তবে তার বলে ছক্কা মেরে নিজেদের ইনিংসের সূচনা করেন ক্যারিবিয়ান ওপেনার কেনার লুইস। যদিও এ ওপেনার টিকতে পেরেছেন কেবল তিন বল। একই ঢঙ্গে আরও একটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লংঅনে ধরা পড়েন এ ওপেনার। চট্টগ্রামের সংগ্রাম শুরু তখন থেকেই।
অপর প্রান্তে নিজে বল করতে আসেন সাকিব। চতুর্থ ওভারে আনেন ক্যারিবিয়ান পেসার আলজেরি জোসেফকে। প্রথম বলেই সফলতা পান এ পেসার। যদিও বলটি ছিল বেশ বাজে। লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন আফিফ হোসেন।
পরের ওভারে প্রান্ত বদল করে ফিরে সফল হন সাকিব। পান সাব্বির রহমানের উইকেট। তাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এ অলরাউন্ডার। ইংলিশ চায়নাম্যান বোলার জ্যাক লিনটট তুলে নেন স্বদেশী উইল জ্যাকসকে। নাঈম হাসান ফিরে বিদায় করেন মিরাজকে। ফলে বড় চাপে পড়ে যায় দলটি।
এরপর শামিম পাটোয়ারি, নাঈম ইসলাম ও বিনি হাওয়েল চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এক হাওয়েল ছাড়া কেউই পারেননি দায়িত্ব নিতে। শামিম ও নাঈমকে ছাঁটাই করেন জোসেফ। তবে প্রায় শেষ পর্যন্ত খেলেছেন হাওয়েল। পাশাপাশি রানের গতিও সচল রাখার চেষ্টা করেন তিনি। ২০ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৪১ রানের ইনিংস খেলেন এ ইংলিশ অলরাউন্ডার।
৪ ওভার বল করে ৩২ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান জোসেফ। ২টি শিকার নাঈমের।