আর্থিক সংকটে ইমার মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত
শ্রমিক বাবার ৮ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ইমামা ইসলাম ইমা। ইমা এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু, পরিবারের আর্থিক সংকটে কারণে ইমার মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইমামা ইসলাম ইমার বাবা রফিকুল ইসলাম যশোরের কেশবপুর পৌরসভার বায়সা গ্রামের একটি দোকানে কাজ করেন। ৭ বোন আর এক ভাই মিলে তাদের সংসার। মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ইমার বাবা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় আগ্রহী ইমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি কখনো পেট ভরে দু'বেলা খেতে পারিনি। এমনও দিন গেছে আমাকে না খেয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং এসএসসি ও এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'খুলনা সরকারি মডেল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। আমার পরিবারের সবাই অনেক খুশি হয়েছে। কিন্তু, ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।'
ইমার বাবা রফিকুল ইসলাম মায়া বলেন, 'আমি একজন দোকান শ্রমিক ও গরিব মানুষ। আমার ৭টি মেয়ে ও একটি ছেলে। অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্টের মধ্যে আমার মেয়ে বড় হয়েছে। কখনো একবেলা খাবার জুটেছে, আবার কখনো জোটেনি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি কেশবপুর পৌর শহরের চায়না মেশিনারিজে শ্রমিকের কাজ করি। যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের মুখে দু'বেলা দু'মুঠো খাবার তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও সন্তানের পড়ালেখার উৎসাহ দিয়েছি। অনেক কষ্টে মেয়েকে পড়িয়েছি। আমার শুধুমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি টিনের জরাজীর্ণ বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার মেয়ে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। কিন্তু, তাকে ভর্তি করার মতো টাকা-পয়সা আমার নেই। কীভাবে মেয়েকে ভর্তি করাব সেই চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ছি।'
প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করে রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমার মেয়ের মেডিকেলে ভর্তি করাতে মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। প্রধানমন্ত্রী যদি যদি সাহায্য করেন তাহলে মেয়েটাকে ডাক্তারি পড়াতে পারব। তা না হলে আমার কোনো ক্ষমতা নেই তাকে পড়ানোর।'
এ ছাড়া, তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন।