৫৩ শতাংশ গার্মেন্টস কর্মীর সন্তানের স্কুলে অনলাইন ক্লাস হয়নি
বাংলাদেশের ৫৩ শতাংশ গার্মেন্টস কর্মীর সন্তান স্কুল থেকে কোনো অনলাইন ক্লাস পায়নি। যে শিশুরা অনলাইন ক্লাস পেয়েছে তাদের ৩১ শতাংশের অভিভাবকের মতে, এই পদ্ধতিতে নেওয়া ক্লাস ফলপ্রসূ ছিল না। মাত্র ১৮ শতাংশ পরিবার অনলাইন ক্লাসকে কার্যকর বলে মনে করেছেন। ৫২ শতাংশ পরিবার অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত নন।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং মাইক্রোফিন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) এর যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
তারা বলছেন, এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয় যে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করার মতো সক্ষমতা দেশের সব স্কুলের নেই।
সানেম এবং এমএফও যৌথভাবে এ বছরের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ২৮০ জন গার্মেন্টস কর্মীর পরিবারের শিশুদের বিষয়ে এই জরিপটি পরিচালনা করে। জরিপে অংশ নেওয়া গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে মধ্যে ৭৬ শতাংশ (৯৭৫ জন) নারী এবং ২৪ শতাংশ (৩০৫ জন) পুরুষ।
জরিপটি কোভিড-১৯ মহামারিতে শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের ওপর আলোকপাত করেছে। জরিপে অনলাইন ক্লাসে শিশুদের অংশগ্রহণের হার, অংশগ্রহণ করতে বিভিন্ন সমস্যা, অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা এবং শিখন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে মহামারির প্রভাব বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।
যেসব গামেন্টস কর্মীর সন্তান স্কুলে যায় তাদের মধ্যে ১১ শতাংশ জানান যে, তাদের সন্তান নিয়মিত অনলাইন ক্লাস পেয়েছে। ২৬ শতাংশ বলেছেন, স্কুল অনলাইন ক্লাস নিলেও তা নিয়মিত নয়, এবং ৫৩ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে কোনো অনলাইন ক্লাস নেওয়া হয়নি।
জরিপে জানা গেছে, গার্মেন্টস কর্মীরা তাদের সন্তানদের মহামারির সময়ে পড়াশুনার ঘাটতি কাটিয়ে উঠার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন। তবে, অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর মতে ২৪ শতাংশ ছেলেশিশু এবং ২১ শতাংশ মেয়েশিশু এখনও তাদের শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার সম্পর্কে ধারণা পেতে, জরিপে গার্মেন্টস কর্মীদের জিজ্ঞাসা করা হয় স্কুলে সশরীরে ক্লাস চালু হলে তাদের পরিবারের শিশুরা আবার পড়াশোনা চালিয়ে যাবে কিনা। উদ্বেগজনকভাবে, স্কুলগামী শিশু রয়েছে এমন ৯ শতাংশ পরিবার ধারণা করেছে যে তাদের পরিবারের কিছু শিশু বা সব শিশু মহামারির পরে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে না।
ঝরে পড়ার কারণ সম্পর্কে তারা পরিবারের আর্থিক অনটন এবং স্কুল বন্ধ থাকার সময়টায় শিশুদের রোজগারে যুক্ত হয়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
গার্মেন্টস কর্মীদের ছেলেশিশুদের তুলনায় মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত শিক্ষার বছরের সংখ্যা কম। যেখানে ৮৯ শতাংশ পরিবার আশা করে যে তাদের ছেলেরা অন্তত উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হবে, সেখানে মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে ৭৭ শতাংশ পরিবার একই আশা পোষণ করেন। ৩৭ শতাংশ পরিবার তাদের ছেলেরা স্নাতকোত্তর স্তরে পৌঁছাবে বলে আশা রাখেন, মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৫ শতাংশ।