ব্রহ্মপুত্র, ধরলার পানি বিপৎসীমার উপরে

কুড়িগ্রামে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ

এস দিলীপ রায়

ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি গত ১২ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও অপরিবর্তিত আছে কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২ সেন্টিমিটার কমে আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ধরলা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রামে দুধকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সকালে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব তথ্য জানায়। 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, গেল তিন দিন ধরে কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর আড়াই শতাধিক চর ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এলাকায় ৪০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি অনেক মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে আসবাবপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজনকে নৌকা অথবা কলা গাছের ভেলায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এসব এলাকায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর আমন ধান, সবজি ও ফসলের খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

kurigram_flood_situation-02.jpg
ছবি: এস দিলীপ রায়

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ গ্রামের পানিবন্দি আকবর আলী (৬০) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গেল চার দিন ধরে তার পরিবার পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। ঘরের ভেতর এক ফুট পানি। খাটের উপর থাকতে হচ্ছে। ভেলায় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাড়ি থেকে গরু-ছাগল নিয়ে উঁচু স্থানে রেখে এসেছেন। বাড়িতে রান্না করা যাচ্ছে না, কারও বাড়ি থেকে খাবার দিলে খাচ্ছেন। 

একই গ্রামের পানিবন্দি আজিজার রহমান (৫৫) জানান, তার বাড়িতে ৩-৪ ফুট পানি। পরিবারের লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে আসবাবপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে সরকারি রাস্তার উপর উঠেছেন। তাদের ৮-১০ মুরগি ও হাঁস পানিতে ভেসে গেছে। পানির স্রোত থাকায় ঘর ভেসে যাওয়ার আশংকা করছেন তিনি।

বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তার ইউনিয়নে ৫-৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি অনেক মানুষ সরকারি রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি মানুষ শুকনো খাবার খেয়ে আছে। তারা বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকটে আছেন। সরকারি ত্রাণ সহায়তা দিতে পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তার ইউনিয়নে ৩ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকাতে আমন ধান ও সবজির খেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অনেক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে আছে তবে এখনো কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীরা সবসময় এসব স্থাপনার খোঁজখবর রাখছেন। নদ-নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও আবারো পানি বাড়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।