তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিত মানুষের
উজানে ভারত থেকে পাহাড়ি ঢল আসা বন্ধ হওয়ায় আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে। এদিন দুপুর ১২টার আগে তিস্তার পানি হাতীবান্ধার দোয়ানী এলাকায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। তবে, ৩৮ সেন্টিমিটার পানি কমে বিকেল ৪টা থেকে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'কোনো বৃষ্টিপাত না হলে এবং উজানে ভারত থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি না এলে তিস্তার পানি আগামী ১২ ঘণ্টায় আরও ১০-১৫ সেন্টিমিটার কমবে। উজান থেকে পানি এলে পানি বেড়ে যায় তিস্তায়। এতে প্লাবিত হয় চর ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, সৃষ্টি হয় বন্যা পরিস্থিতির।'
তিস্তার পানি কমতে শুরু করায় বিকেল থেকে বন্যাকবলিত এলাকার বাড়ি-ঘর থেকে বানের পানি নামতে শুরু করেছে। তবে, এখনো অধিকাংশ এলাকায় বানের পানি আছে। রাস্তা-ঘাট ও ফসলের খেত তলিয়ে আছে বানের পানির নিচে। এখনো দুর্ভোগ কমেনি পানিবন্দী মানুষের। রান্না করতে না পেরে শুকনো খাবার চিড়া, মুড়ি, গুড়, চিনি ও পাউরুটি খেয়ে থাকতে হচ্ছে।
বন্যাকবলিত মনসুর আলী (৪৮) দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আজ সকালে তাদের ঘরে এক কোমর পানি ছিল। তবে, বিকালের দিকে পানি কমে এখন হাঁটু পানি আছে। রান্না করার চুলা ও নলকূপ বানের পানির নিচে তলিয়ে আছে।
মনসুরের স্ত্রী মমতা বেগম (৪৩) জানান, সন্তানদের নিয়ে খাটের ওপরে আছি। বাইরে থেকে বিশুদ্ধ পানি আনা হচ্ছে পান করার জন্য। তিস্তার পানি বাড়লে তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। আর পানি নেমে যাওয়ার পরও তাদের দুর্ভোগ থাকে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মতিয়ার রহমান মতি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানিবন্দী মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। পানিবন্দী তালিকা তালিকা করা হচ্ছে। তাদেরকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'চরের অনেক বন্যাকবলিত পরিবারের মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে গরু-ছাগল ও আসবাবপত্র নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।'