দেশের ১৭ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা
টানা বৃষ্টিপাতে দেশের নদ-নদীর পানির সমতল বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আজ শনিবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৭টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষণকৃত ১০৯টি পয়েন্টের মধ্যে ৯১ পয়েন্টে নদীর পানির সমতল বাড়ছে। কমেছে ১৩টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি নদীর পানি।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং এর পাশে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গের কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা, সুরমা, কুশিয়ারাম তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ সব প্রধান নদ-নদীরগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার অতিক্রম করতে পারে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, লালমনিরহাট, নীলফফামারী ও রংপুরের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পরে।
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আজ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের আগরতলা (ত্রিপুরা) পয়েন্টে ১৬৫ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে (মেঘালয়) ১২০ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, কৈলাশহর (ত্রিপুরা) পয়েন্টে ৮৮ দশমিক শূন্য মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া, দেশে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবাগ পয়েন্টে ২২৬ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, ভৈরব বাজারে ১৭৫ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, হবিগঞ্জ ১৪৮ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, শেরপুরে (সিলেটে) ২১৫ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, মৌলভীবাজারে ১৭৫ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, মনু রেলওয়ে ব্রিজ (মৌলভীবাজার) পয়েন্টে ১৪৫ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৭৫ দশমিক শূন্য মিলিমিটার, জকিগঞ্জে (সিলেট) ১৫০ দশমিক শূন্য মিলিমিটার এবং সিলেটে ১৪৪ দশমিক শূন্য মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।