কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট

ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ওপরে

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলার পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি তিস্তা নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

আজ শুক্রবার কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পাউবো জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর, সদর উপজেলার ধরলা সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি এর মধ্যে বিপৎসীমা ছুঁয়েছে।

এতে কুড়িগ্রামের ৪৫০টি চর, দ্বীপচর ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোর বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার ফসলের খেত ও রাস্তা-ঘাট। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল থেকে পানিবন্দী লোকজন তাদের আসবাবপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে শুরু করেছেন।

একই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার ১০টি গ্রামের দুই হাজারের বেশি মানুষ। যাদের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ও সরকারি রাস্তায়।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চরপার্বতী এলাকার কৃষক নবির হোসেন (৫৮) দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আজ ভোরে তাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়ার পর আসবাবপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব গ্রামের দিনমজুর মনসুর আলী (৪৫) জানান, গত দুই দিন ধরে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে সরকারি রাস্তার উপর আছেন। তার ঘরে এখন ৩-৪ ফুট পানি।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলাপাড়ের শিবেরকুটি গ্রামের কৃষক দিলবর রহমানের (৬০) কাছ থেকে জানা যায়, ঘরে ধরলা নদীর পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় তারা এখন আশ্রয় নিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উপর। এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ফসলের খেত সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায়, এখানকার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'এ অঞ্চলে নদ-নদীর পানি ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে পড়ে। তাই ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলে তার পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। এতে অন্যন্য নদ-নদীর পানিও বেড়ে যায়।'

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আরিফুল ইসলাম।