পদ্মার ভাঙনের মুখে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মার ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামে ও চরহরিরামপুর ইউনিয়নের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সদর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের বালিয়াডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালিয়া ডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিক ভাঙনের হুমকিতে আছে। এছাড়া, চরহরিরামপুর ইউনিয়নের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ভাঙনের মুখে পড়েছে।
বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ৪টা এবং শুক্রবার বিকেল ৩টা হতে ৪টা পর্যন্ত ভাঙনের ফলে কাঁচা রাস্তাসহ প্রায় ৩০ শতাংশ জমি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙতে ভাঙতে পদ্মা নদী বর্তমানে পাশাপাশি অবস্থানকারী ওই স্কুল ও ক্লিনিকের মাত্র ১৫ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে।
তারা জানান, ভাঙন রোধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, ওই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ আশেপাশের বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
বালিয়া ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '১৯৮৮ সালে এ বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর বিদ্যালয় ভবনটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে, ২০০৬ সালে স্কুলটি সরিয়ে এনে বর্তমান স্থানে আনা হয় এবং দ্বিতল একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, সেটিও ভাঙনের মুখে পড়েছে।'
বালিয়াডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার খালেদা আক্তার বলেন, 'গত বৃহস্পতিবারের ভাঙন ছিল মারাত্মক। ভাঙন এখন ক্লিনিকের খুব কাছে চলে এসেছে। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্লিনিকটি বিলীন হয়ে যাবে।'
এদিকে, পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙতে ভাঙতে ওই স্কুল থেকে ৪০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে পদ্মা নদী।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে স্থাপন করা হয়। ১৯৯৭ সালের ভাঙনের মুখে সেটি বিলীন হয়ে যায়। পরে, বর্তমান স্থানে একটি টিনের ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সেটিও এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বালিয়াডাঙ্গী, ফাজেলখারডাঙ্গী ও সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামের অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য ১৫ হাজার ৮৯৪টি জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যে ফাজেলখার ডাঙ্গীতে পাঁচ হাজার ১৩ বস্তা ডাম্পিং করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বালিয়া ডাঙ্গীতেও ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলা হবে। এখানে পাঁচ হাজার বস্তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামেও বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হবে।'