পদ্মায় বিলীন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর এবার পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। বার বার কর্তৃপক্ষকে বলার পরও ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, 'শনিবার রাত ১১টার দিকে নদীর তীব্র স্রোতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৭০ ভাগেরও বেশী অংশ নদীতে চলে গেছে। বাকি অংশটুকু নদীতে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র।' 

তিনি বলেন, 'চরাঞ্চলের আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ী, এই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য ২০১৪ সালে ৮১ লাখ টাকা খরচে তৈরি করা হয় আজিমনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। গত বছর এটি নদী থেকে দেড়শ গজ দূরে থাকা অবস্থায় লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে এবারো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছেন বলে আমাকে জানান। কিন্তু ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।'

উল্লেখ্য, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তায় পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একই উপজেলার সুতালড়ী রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া, চলতি বছর শতাধিক বাড়ি-ঘর, বিস্তীর্ণ ফসলী জমি ইতোমধ্যেই নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান।

নদী ভাঙন প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, 'বর্তমানে নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকার কারণে ভাঙন রোধে কিছুই করা সম্ভব নয়। বিগত সময়ে কিছু কিছু এলাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা সফল হইনি। চলতি মাসেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিদ্যালয়টিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারিনি। এ কারণে আমরা এখন আর নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে কাজ করছি না। কেননা, ৬০ লাখ টাকা খরচ করেও ৫০ লাখ টাকার স্থাপনা রক্ষা করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, ভবিষ্যতে যাতে নদী তীরবর্তী ভাঙন কবলিত এলাকায় পাকা ভবন না করে স্থানান্তরযোগ্য স্থাপনা তৈরি করা হয়। যাতে ভাঙনের আগেই তা সরিয়ে নেওয়া যায়।'