পাবনা-সিরাজগঞ্জের বন্যা কবলিতদের হিসাব নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এদিকে, পদ্মা নদীতে পানি কমলেও, নদী তীরবর্তী জলাবদ্ধ এলাকাগুলোর বাসিন্দারা এখনও পানিবন্দী হয়ে আছেন। নদীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা ও চর এলাকাগুলো এখন বন্যা কবলিত। তবে, মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য না পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় এখনও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের কোন হিসাব দিতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।

আজ শনিবার সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সিরাজগঞ্জের দুটি পয়েন্টেই যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে শনিবার সকালে ১৩ দশমিক ৬০ মিটার উচ্চতায় যমুনার পানি প্রবাহিত হয়, যা বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপরে।'

এছাড়া, কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ১৫ দশমিক ৪০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালি, কাজিপুর, শাহজাদপুর ও বেলকুচি উপজেলার নিচু এলাকা ও চর এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

নদীতে পানি বৃদ্ধি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে, যমুনায় দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলেও মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য না পাওয়ায় এখনও বন্যা কবলিতদের কোন হিসাব নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা বন্যা কবলিত এলাকার চেয়ারম্যানদের বারবার বলা স্বত্বেও এখনও ক্ষয়ক্ষতির কোন তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তারা দেয়নি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায় থেকে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

untitled_design_52.jpg
পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে পাবনা সদর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ছবি: স্টার

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী পাবনার বেড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। আর, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনা সদর ও ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

পাবনা হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পদ্মা নদীতে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছালেও, গত কয়েকদিন নদীর পানি দ্রুত গতিতে কমছে। শনিবার সকালে পাবনার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১৩ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়, যা বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচে।'

তবে, পদ্মায় পানি কমলেও ঈশ্বরদী ও পাবনার চরাঞ্চলের পানিবন্দী এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

পাবনার বন্যা কবলিতদের বিষয়েও কোনও হিসাব নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

জানতে চাইলে পাবনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নদনদীতে পানি বাড়লেও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির কোন রিপোর্ট আমাদের কাছে আসেনি।'

বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে বলে জানান তিনি।