ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী ৫ হাজার পরিবার
গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ শনিবার ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, ফরিদপুর সদর উপজেলার মোট ৪১টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। এর মধ্যে, নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের এক হাজার ১৫০ পরিবার, ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের এক হাজার দুইশ পরিবার ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় আছে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ইউনিয়নের শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গী গ্রামের ১৬ একর ও আলিমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের তিন একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, 'বন্যার পানির তোড়ে নাজিম বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামে যাওয়ার ইট বিছানো সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এবং ব্যাপারি ডাঙ্গীগামী সড়কের মোতালেব মিন্টুর বাড়ির সামনে ৫০ মিটার অংশ পানির তোড়ে ভেসে গেছে।'
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সুলতান খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম খাঁ (৫৫) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের বাড়ির চারপাশে পানি। আরও একটু পানি হলেই বাড়ীর গোয়াল ঘরে পানি ঢুকবে। তখন চারটি গরু নিয়ে দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।'
একই এলাকার বাসিন্দা হাসি বেগম (৩২) জানান, পানি আর এক ফুট বাড়লে, তাদের ঘরে পানি ঢুকে যাবে।
যোগাযোগ করা হলে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এতে নদীর পানি বিপৎসীমার ৪১ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।'
'তবে, আশা করছি আগামী দুই দিন পর থেকে পানি কমতে শুরু করবে,' বলেন তিনি।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুম রেজা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বন্যার ঝুঁকিতে থাকা সদরের তিনটি ইউনিয়নের জন্য এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৪০০ প্যাকেট শিশু খাদ্য ও ২০০ বস্তা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।'
'ঢাকায় আরও বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ত্রাণ তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে,' বলেন তিনি।