ফরিদপুরে ৩ উপজেলার ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দী
ফরিদপুরের তিনটি উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের অন্তত আট হাজার ২০০ পরিবার বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় আছে। এই পরিবারগুলো ফরিদপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের পাশাপাশি চরভদ্রাসন উপজেলার চারটি ও সদরপুর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রামের বাসিন্দা।
আজ সোমবার জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও দুই সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার সকালে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
ফরিদপুর সদরের ডিক্রির চর ইউনিয়নের নাজির বিশ্বাসের ডাঙ্গী ও তায়জদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই দুটি গ্রামের অনেক বাড়ির আঙিনা তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ার অবস্থা তৈরি হয়েছে।
নাজির বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা শাহনাজ বেগম (৩০) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রান্নাঘরে চুলায় পানি ঢুকে গেছে, রান্না করা যাচ্ছে না। সাতটা ছাগল আছে, সেগুলোকে রাস্তায় নিয়ে শুকনো জায়গায় রাখতে হয়। সন্ধ্যায় আবার বাড়িতে এনে উঁচু জায়গায় রাখতে হয়।'
তায়জদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের হালিম মিয়া (৪৩) জানান, মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়, গবাদিপশুর জন্য খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রোববার উপজেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়নে ২৯ বস্তা গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।'
ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, 'বন্যার কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যাতায়াতের। বিভিন্ন জায়গায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা চলছে।'
পদ্মায় পানি বাড়তে থাকায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চারটি গ্রামের ২০০ পরিবার, চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের ৭০০ পরিবার, চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের চারটি গ্রামের ২০০ পরিবার এবং সদর ইউনিয়নের ১৫০টি পরিবার নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
এদিকে, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বাড়ায় সদরপুরের দিয়ারা নাড়কেল বাড়িয়া ও চর নাসিরপুর ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের এক হাজার ৪০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও দুই সেমি বেড়ে বিপৎসীমার ৫০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।'
তবে, পানি বৃদ্ধির প্রবণতা কমে আসছে বলে জানান তিনি।