বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি, ফসলি জমি প্লাবিত
মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ছয় সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি বাড়ার ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ পদ্মা, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও ইছামতিসহ সবগুলো নদীতেই পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি প্লাবিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন।
আজ রোববার দুপুরে যমুনা নদী তীরবর্তী শিবালয় উপজেলার নতুনপাড়া এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে চলাচলের সড়কটিও। হাঁটু পানি ভেঙে চলাচল করতে দেখা গেছে ওই এলাকার মানুষকে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডর পানির স্তর পরিমাপক মো. ফারুক হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শনিবার বিকেলে ৩টা থেকে রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত, ২৪ ঘণ্টায় আরিচা পয়েন্টে যমুনার পানি ছয় সেন্টিমিটার বেড়ে তা বিপৎসীমার চার সেন্টিমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এ পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ সবগুলো নদীর পানিই বাড়ছে।'
ওই এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দুদিন আগে নদী থেকে ড্রেনের মাধ্যমে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আজ সকালে যাতায়াতের পথে পানি উঠেছে। বেলা ৩টার দিকে হাটুর নিচে পর্যন্ত পানি উঠেছে। চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।'
এদিকে, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা, বাঘুটিয়া ও চরকাটারি; শিবালয় উপজেলায় অন্বয়পুর ও কাশাদহ; হরিরামপুর উপজেলার ধূলশুরা ও কাঞ্চনপুর; মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কুশেরচর ও সিংগাইর উপজেলার জামশা এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘর, আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘিওর উপজেলার অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। নতুন করে পানি বাড়াতে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন কয়েকশ পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, 'জেলার ৫০ কিলোমিটার এলাকা পদ্মা ও যমুনা নদীর ধারে হওয়ায় প্রতিবছর এসব এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে। গুরুত্ব বিবেচনায় ১৩ দশমিক আট কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জরুরিভাবে বিভিন্ন এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙনরোধের চেষ্টা অব্যাহ রয়েছে।'