রাজবাড়ীতে পানিবন্দি ২৩ হাজার মানুষ
রাজবাড়ীতে পদ্মায় প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। জেলার নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ২৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে চারটির নিচু এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চর মৌকুড়া গ্রামের মালেকা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এবারের বন্যায় দুর্দশার শেষ নাই। বাড়ির পুরুষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ঘরে খাবার নেই। খুবই সমস্যায় আছি।'
একই গ্রামের কৃষক কালাম হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সবে রোপণ করা ধানক্ষেত, বীজতলা— সব বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। চরের কৃষকদের মাথায় হাত।'
'অনন্যা সংকটের সঙ্গে গোখাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে' উল্লেখ করে চর মৌকুড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা কোনো রকম খাবার পেলেও গবাদিপশুর খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। গবাদিপশুর জন্যে প্রতিদিন খাবার কিনে আনা কষ্টকর। খুব অসুবিধায় আছি। কোনো জনপ্রতিনিধি এখনো আমাদের সাহায্য করতে আসেন নাই।'
কৃষক আয়নাল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রতিদিন পানি পার করে গরু-ছাগল পাশের এক টুকরো শুকনো জমিতে নিয়ে যাই। আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসি। তারপরও রয়েছে চোর-ডাকাতের ভয়। গ্রামবাসী সবাই মিলে রাতে পাহারা দিচ্ছি।'
গোদার বাজার এলাকার কৃষক দারগ আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিজেদের খাবার জোগাড় করাই কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে, গরুর খাবারের পয়সা পাবো কোথায়? আগে ক্ষেত থেকে ঘাস, কেটে আনতাম এখন বন্যার পানিতে ঘাসের মাঠ তলিয়ে গেছে।'
পার্শ্ববর্তী চর কাঠালিয়া গ্রামের রাহেলা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘরে পানি ঢোকায় চৌকির ওপর চুলা বসাতে হয়েছে। বাচ্চারা কখন পানিতে পড়ে যায় সেই দুশ্চিন্তায় কোনো কাজ করতে পারি না। পোকামাকড়ের অত্যাচার আছে।'
মিজানপুর ইউনিয়নের চর মৌকুড়া ও চর কাঠালিয়া গ্রাম দুটির মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। এই দুই গ্রামে প্রায় একশ পরিবারের বসবাস। এই ইউনিয়নের মেম্বার মো. মনু মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঐখানে আমার মাত্র দুই-তিনটা ভোট। ঐখানে গিয়ে কী করবো?'
'রাজবাড়ীতে ২৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি' উল্লেখ করে রাজবাড়ীর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ ও নগদ টাকা দেওয়া আছে। ইতোমধ্যে তা বিতরণের জন্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'করোনার কারণে প্রত্যেক উপজেলায় ত্রাণ মজুদ রয়েছে। কেউ খাদ্য সংকটে আছেন এমন তথ্য পেলে তাকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হবে। পানিবন্দি মানুষের তালিকা তৈরির কাজও চলছে।'