সিরাজগঞ্জে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপরে যমুনা, জলাবদ্ধ অন্তত ১৫ ইউনিয়ন
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদী বিপৎসীমার ছয় সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার অন্তুত ১৫টি ইউনিয়ন জলাবদ্ধ হয়ে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যমুনা নদীর পানি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জের হার্ড পয়েন্টে ১৩ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ছয় সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি ১৫ দশমিক ১৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, এটি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচে।'
নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নাসির উদ্দিন বলেন, 'উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে অতি বৃষ্টির কারণে নদীতে পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।'
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনা তীরবর্তী সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলা, কাজিপুর উপজেলা, চৌহালি উপজেলা, বেলকুচি উপজেলা ও শাহজাদপুর উপজেলার অন্তত ১৫টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'উপজেলা থেকে এখনও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির কোন হিসাব পাওয়া যায়নি। যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে সেগুলো সবই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আওতার বাইরে। উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য না পাওয়ায়, এখনও ত্রাণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা যায় নি।'
তবে, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে এবং প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।