হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১ হাজার ২৯৭, আহত ৫ হাজার ৭শ’র বেশি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র হাইতির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৯৭ জনের মৃত্যু এবং পাঁচ হাজার ৭০০'র বেশি মানুষের আহতের খবর পাওয়া গেছে।

রয়টার্স জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূমিকম্পে গির্জা, হোটেল, স্কুল ও বাড়ি-ঘরসহ বহু ভবন পুরো ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

গতকাল রোববার হাজারো আহত রোগীর চাপে হাইতির হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব প্রান্ত থেকে ভূমিকম্পে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ডাক্তারদের নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে।

হাইতির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে লেস কায়েস শহরের আশেপাশের এলাকাগুলো। হাইতির নগর প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, হাসপাতালগুলো বিপুল পরিমাণ আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

উত্তর-পশ্চিমের জেরেমি শহরটিও প্রচুর পরিমাণে ক্ষতির শিকার হয়েছে। সেখানে ডাক্তাররা আহতদের গাছের ছায়ায় হাসপাতালের স্ট্রেচারে রেখে এবং রাস্তার পাশে ম্যাট্রেসের ওপর শুইয়ে রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে তাদের স্থান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

নগর প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রধান জেরি চ্যান্ডলার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, 'আমরা গুরুতর সমস্যায় আছি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকেন্দ্র অকার্যকর অবস্থায় আছে এবং যেগুলো কার্যকর আছে, সেগুলোতেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ দেখা যাচ্ছে।'

হাইতিতে করোনাভাইরাস মহামারি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পরিস্থিতি আগে থেকেই খারাপ ছিল। এ ছাড়াও, রাষ্ট্রপতি জোভেনেল মইসিকে ৭ জুলাই আততায়ীরা হত্যা করার পর থেকে দেশটি রাজনৈতিক সংকটে ভুগছে।

ভূমিকম্পে গির্জা, হোটেল, হাসপাতাল ও স্কুলসহ প্রায় অসংখ্য দালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একটি জেলখানার দেয়াল ধ্বসে পড়ে যায় কম্পনের তীব্রতায়। নাগরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ১৩ হাজার ৬৯৪টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

মৌসুমি লঘুচাপ 'গ্রেইস'র কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও বিঘ্নিত হতে পারে। পূর্বাভাষ অনুযায়ী, সোমবারে ৭৫ থেকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা থেকে ভূমিধ্বস ও কিছু নদীর পানি উপচে বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে নগর প্রতিরক্ষা সংস্থা।

সংস্থাটি জানায়, 'আমরা নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।'

চ্যান্ডলার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ভূমিকম্পের কারণে গৃহহীন হয়ে রাস্তায় দিন কাটানো হাজারো মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে।