সিলেটে ২৫টি পাখি ও ১টি বানর উদ্ধার, আটক ১ 

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

সিলেটে অভিযান চালিয়ে ২৫টি বন্য ও অতিথি পাখি এবং একটি বানর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশকর্মী ও বন বিভাগ যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম এবং সিলেট বন বিভাগের টাউন রেঞ্জের ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার শহীদুল্লাহ অভিযানে অংশ নেন। 

এ সময় ১৬টি বালিহাঁসসহ পাখি বিক্রেতা জিতু মিয়াকে আটক করা হয়।  

উদ্ধার হওয়া পাখির মধ্যে ৪টি বালিহাঁস, ৪টি বক ও ময়না পাখি শেখঘাট এলাকায় সুরমা নদীর পাড়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। নগরীর বাগবাড়ি থেকে উদ্ধার করা বানরটি খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

আটক পাখি বিক্রেতা জিতু মিয়াকে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

জিতু মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এসব পাখির চালান আসে হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওরাঞ্চল থেকে। ক্রেতারা ফোনে যোগাযোগ করলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পাখি সরবরাহ করা হয়।

সিলেট নগরীর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ অনেকেই তার শীত মৌসুমের নিয়মিত গ্রাহক বলে জানান জিতু মিয়া।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত ১০-১২ বছরের মধ্যে আমি পাখির মাংস খাইনি। ডাক্তারের নিষেধ থাকায় মাংস খাই খুব পরিমিত। আমার পরিবারের কেউও পাখির মাংস খান না।'

'আর জিতু মিয়া বা অন্য কোন পাখি বিক্রেতাকেও আমি চিনি না। সে যেহেতু আমার বাসার পাশে ধরা পড়েছে, তাই আমার নাম উল্লেখ করেছে বলে ধারণা করেছি। তার আইনানুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত,' যোগ করেন তিনি।

জানতে চাইলে অভিযানে অংশ নেওয়া আব্দুল করিম কিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একজন কবুতরের দোকানের মালিকের দেওয়া তথ্য মতে বালিহাঁসের পাইকারি বিক্রেতা একজনের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করা হয়। তাকে নগরীর কুমারপাড়ায় পাখি নিয়ে আসতে বললে, সেখানে সে আসে এবং পরিবেশকর্মীরা তাকে আটক করেন। পরে ১৬টি বালিহাঁসসহ তাকে র‌্যাবের হাতে তুলে দেওয়া হয়।'

জানতে চাইলে র‌্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার তুহিন রেজা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জিতু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর জব্দ হওয়া পাখিগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবেশকর্মীদের সহযোগীতায় বন্য পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।'