ইউক্রেনে হামলা হলেও সেনা পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া: স্কট মরিসন

By আকিদুল ইসলাম
19 February 2022, 09:32 AM

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিশ্বাস করেন যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী ১ সপ্তাহ বা ১ দিনের মধ্যেই তা করবেন।

গতকাল ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দারা জানিয়েছে, রাশিয়ার বিশেষ বাহিনী ডোনেটস্কের সামাজিক অবকাঠামো সুবিধাগুলোতে বিস্ফোরক পুঁতে রেখে বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার জন্য অনুরোধ করেছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাদের মিত্র দেশগুলোকে সাহায্যকারী সেনা প্রস্তুত রাখার ইঙ্গিত দেওয়ার পর আজ শনিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করলেও অস্ট্রেলিয়া সেখানে কোনো সেনা পাঠাবে না। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও কানাডাসহ অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সংকটে অস্ট্রেলিয়া সেনা পাঠিয়েছে।

স্কট মরিসন বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া তার সমমনা মিত্রদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করবে। তবে কোনো সেনা পাঠাবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে আরও অনেক উপায়ে কাজ করি এবং আমরা সেই প্রচেষ্টাগুলোকে সহায়তা করার জন্য যে ব্যবহারিক কাজগুলো করতে পারি, আমরা তা করার চেষ্টা করব।'

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হুমকিকে উস্কানিমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মুক্ত জাতি, গণতান্ত্রিক জাতি ও শান্তির পক্ষে থাকা জাতিদের এমন আচরণ করা উচিত নয়। আমরা এটি আগেও দেখেছি এবং আমরা এটিকে সমর্থন করতে পারি না।'

'আমরা সর্বদা যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের মতো বিশ্বজুড়ে আরও অনেক দেশের পক্ষে দাঁড়াতে পারলে গর্বিত হব। ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গেও কাজ করতে আমরা প্রস্তুত', যোগ করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যান্থনি আলবেনিজ জানান, তিনি রাশিয়াকে পিছু হটতে আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমরা জানি যুদ্ধের বিপর্যয়ের বাস্তব পরিণতি রয়েছে এবং রাশিয়া যদি সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তবে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ইউক্রেনের জনগণের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে। সুতরাং আমি রাশিয়াকে বলব, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে এবং এখনই পিছু হটতে হবে।'

গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার সাময়িকভাবে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে তার কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে।

রাশিয়া দাবি করেছে যে, তারা সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, সেখানে রাশিয়া ১ লাখ সেনা হামলার জন্য প্রস্তুত রেখেছে।

আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক