ক্যানবেরায় বহু ভাষাভাষীদের অংশগ্রহণে একুশের অনন্য উদযাপন

By স্টার অনলাইন ডেস্ক
21 February 2022, 12:51 PM
UPDATED 21 February 2022, 18:59 PM

অস্ট্রেলিয়ায় বহু ভাষাভাষীদের অংশগ্রহণে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে পালিত হয়েছে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

রাজধানী ক্যানবেরায় প্রভাতফেরীসহ বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে ক্যানবেরার মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত-কূটনীতিকসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

গত তিন বছরের মতো এবারও ক্যানবেরার তেলোপিয়া পার্কে মানুকা সার্কিট ও নিউ সাউথ ওয়েলস স্ট্রিটের ক্রসরোডে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রভাতফেরী সকাল ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে মানুকা ওভাল ঘুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ হয়।

dsc_0525_0.jpg
ছবি: বাংলাদেশ দূতাবাস

এতে অংশগ্রহণ করেন এসিটি গভর্নমেন্টের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাসেল স্টিফেন স্মিথ, অ্যাটর্নি জেনারেল ও এসিটি গ্রিন দলের নেতা শেন রাতেনবারি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, অষ্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সার্ক রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন ভাষা-ভাষীদের প্রতিনিধি, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী ও অভিবাসীরা, অস্ট্রেলিয়া সফরররত বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্ত-কর্মচারীরা।

অংশগ্রহণকারীরা অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় ভাষা শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান, ভারতের হাইকমিশনার মনপ্রীত ভোরাসহ অন্যান্যরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

এসময় সুফিউর রহমান বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭৯০ কোটি মানুষ প্রায় ৭ হাজার  ভাষায় কথা বলেন যার প্রায় অর্ধেকই ঝুঁকির মধ্যে আছে। এসব  মাতৃভাষা সংরক্ষণে দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বহুভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব গভীরভাবে অনুভব করে।

বক্তারা বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা মোকাবিলার জন্য বহু সংস্কৃতিবাদ ও ভাষার অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।

এবারও এই অস্থায়ী শহীদ মিনার চার দিন ব্যাপী খোলা রাখা হয়েছে।

সকাল ৮ টায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হাইকমিশনার সুফিউর রহমান জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়।

নিজ নিজ ধর্মমত ও প্রথা মোতাবেক ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে মৌন প্রার্থনা এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসটির প্রথম প্রহরের অনুষ্ঠান শেষ হয়।

সন্ধ্যায় দেড় শতাধিক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও অভিবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওপর আলোচনা সভা আয়োজন করা হয় যাতে হাইকমিশনারসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা আলোচনায় অংশ নেন।

হাইকমিশনার আপন ভাষাপ্রীতি যেন বর্ণবাদে না গড়ায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীও ভাষাভাষীদের অধিকার ক্ষুন্ন না করে এ বিষয়ে সজাগ থাকার কথা বলেন। আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন অস্ট্রেলিয়া সফররত বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। আলোচনা শেষে ভাষা শহীদদের স্মরণে ও বাংলাদেশকে উপজীব্য করে স্থানীয় বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।