জোকোভিচের অস্ট্রেলিয়ান ভিসা ফেরত বিষয়ে রায় আগামীকাল
পুরো পৃথিবী এখন তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আদালতের দিকে। আগামীকাল সোমবার আদালতের সিদ্ধান্তের পর জানা যাবে টেনিস সুপারস্টার নোভাক জোকোভিচের বাতিল হওয়া অস্ট্রেলিয়ার ভিসাটি ফেরত পাবেন কি না।
গতকাল এই টেনিস তারকার আইনি দল ভিসা ফেরত পাওয়ার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দিয়েছেন। জোকোভিচের আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন যে, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলার জন্য তার চিকিৎসা অব্যাহতির আবেদন তার কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে পুনরুদ্ধারের ভিত্তিতে করা হয়েছিল।
গতকাল আদালতে দাখিল করা নথিতে জোকোভিচের আইনি দল বলেছেন, সার্বিয়ান সুপারস্টার গত ১৬ ডিসেম্বর পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হন। তবে সে সময় তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জোকোভিচ গত ৩০ ডিসেম্বর টেনিস অস্ট্রেলিয়ার চিফ মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছিলেন। এতে বলা হয়েছে, তাকে 'কোভিড ভ্যাকসিনেশন থেকে চিকিৎসা ছাড়' দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, তিনি কোভিডে সংক্রমিত হয়েছিলেন। তিনি গত বুধবার যখন অস্ট্রেলিয়ায় যান, তখন করোনার লক্ষণ মুক্ত ছিলেন।
আগামীকাল আদালতে আইনজীবী যুক্তি দেবেন যে, জোকোভিচ 'অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশন' (ATAGI)-এর নির্দেশিকা অনুসারে সাময়িক ছাড়ের মানদণ্ড পূরণ করেছেন।
আইনজীবীদের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে জোকোভিচ যে চিঠি পেয়েছেন সে অনুযায়ী তিনি অস্ট্রেলিয়ায় কোয়ারেন্টিন মুক্ত ভ্রমণের শর্ত পূরণ করেছেন। ১৮ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের জন্য জোকোভিচকে দেওয়া ভিসায় কোনো শর্ত ছিল না।
জোকোভিচের অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল এখন একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সার্বিয়ান নেতারা অস্ট্রেলিয়াকে রাজনীতি খেলার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনা ব্রনাবিক বলেছেন, 'জোকোভিচের সঙ্গে অন্য খেলোয়াড়দের থেকে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে এবং এ জন্যই আমরা মনে করি যে, জোকোভিচ অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতির শিকার।'
সার্বিয়ার রাষ্ট্রপতি অ্যালেক্সান্ডার ভুসিচ বলেছেন, 'এটি স্বাধীনতাবাদী বিশ্বের জন্য লড়াই। এটা শুধু নোভাকের লড়াই নয়, পুরো বিশ্বের লড়াই।'
জোকোভিচের পরিবারের দাবি, তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। তার রুমের সামনে কড়া পুলিশ পাহারা বসিয়ে বিশ্বসেরা টেনিস তারকাকে অপমান করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার সার্বিয়ান খেলোয়াড় নোভাক জোকোভিচের সমর্থনে সার্বিয়ান পার্লামেন্টের বাইরে কয়েকশ মানুষ একত্রিত হন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবারো জোর দিয়ে বলেছেন, 'সার্বিয়া অস্ট্রেলিয়ার ভালো বন্ধু। তারা সব সময় আমাদেরকে অত্যন্ত শক্তিশালী সমর্থন দিয়েছে, বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে। আমরা এর প্রশংসা করি। তবে এটি এমন একটি ঘটনা যা একজন ব্যক্তি এবং অস্ট্রেলিয়ার সার্বভৌম সীমান্ত আইন ও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।'
আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক