‘প্রবাসীদের জন্য চট্টগ্রাম হতে পারে বিনিয়োগের স্বর্ণদুয়ার’
আগামী কয়েক বছরে চট্টগ্রাম এই মহাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ও বিনিয়োগের স্বর্ণক্ষেত্র হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন, শিগগিরই চট্টগ্রামের সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগ বাড়বে এবং এখানে যে সব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে তাতে বিনিয়োগ করে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারবেন সহজেই।
চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের আয়োজনে প্রবাসী উৎসবে বক্তারা এ সব কথা বলেন। গত বুধবার চট্টগ্রামের একটি হোটেলে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
এতে জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী বলেন, 'প্রবাসীরা যদি দেশে কোনো কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন এবং এতে কারো কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয় সেটাই বিনিয়োগ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্সযোদ্ধা। সেটি আমাদের স্বীকার করতেই হবে। তারা যদি বিমানবন্দরে বা এ দেশে এসে বিনিয়োগ করতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়েন, তবে আমাদের কাছ থেকে সব ধরনের সহায়তা পাবেন।'
এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম দেশের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের যে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
চেম্বার সভাপতি বলেন, 'এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের আউটার রিং রোডের অর্থনৈতিক প্রকল্প প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য একটি ভাল ক্ষেত্র হতে পারে। তারা এখানে যৌথভাবে বা নিজ উদ্যোগে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে বিনিয়োগ করে দেশের অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখতে পারেন।'
চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, 'বর্তমান সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে বাস্তবমুখী ও যুগান্তকারী অনেকে উদ্যোগ নিয়েছে। তারপরও প্রবাসীদের অনেক ভোগান্তি ও সমস্যা রয়ে গেছে। তাই সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে আরও আন্তরিক হওয়ার।'
তিনি আরও বলেন, 'সময় থাকতে এ সব নিয়ে ভাবতে হবে এবং ফলপ্রসূ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ যেন মজবুত থাকে এবং প্রবাসী কর্মীরা যেন দেশে ও প্রবাসে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাসগুলোর দ্রুত ও কার্যকর সহযোগিতা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।'
'ভালবাসা সব অসহায়ের তরে' - এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রবাসীদের সংগঠনটির এই আয়োজনে অংশ নেন ওমানে বসবাসরত চট্টগ্রামের কয়েকশ প্রবাসী ও তাদের পরিবার।
অনুষ্ঠানে ৯ জন এনআরবি সিআইপিসহ ৭০ জন ওমান প্রবাসীকে মানবতার সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
২০১৫ সালে ওমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রবাসীদের গড়া সংগঠনটি এ পর্যন্ত ১৫১ জন অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠাতে সহায়তা করেছে। এছাড়াও ৫ শতাধিক অসহায় প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তা ছাড়াও প্রবাসীদের কল্যাণ ও মানবতার সেবায় কাজ করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসিরউদ্দিন, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন প্রমুখ।