বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ করা হলে খায়রুজ্জামান বাঁচবেন না: স্ত্রী রিটা রহমান

By স্টার অনলাইন ডেস্ক
13 February 2022, 14:32 PM
UPDATED 13 February 2022, 20:38 PM

মালেশিয়ায় নিযুক্ত সাবেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত এবং জেলহত্যা মামলায় সন্দেহভাজন মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফেরত না পাঠাতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছেন তার স্ত্রী রিটা রহমান।

এ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তার স্বামীর জন্য নিরাপদ নয়। দেশে ফেরত পাঠানো হলে তিনি বাঁচবেন না।

২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান (৬৫)। সম্প্রতি তার আম্পাংয়ের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় মালেশিয়ার কর্তৃপক্ষ।

মালেশিয়ার সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, অজ্ঞাত কারণে খায়রুজ্জামানকে তার নিজ দেশ বাংলাদেশ খুঁজছে বলে জানতে পেরেছে তারা।

মালেশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজাহ জয়নুদিন বলেছেন, সাবেক এই কূটনীতিকের গ্রেপ্তার আইনি প্রক্রিয়া মেনেই করা হয়েছে।

যদিও খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমান বলছেন, তার স্বামীর গ্রেপ্তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ছেলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রিটা ফোনে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে বলেন, 'আমার স্বামী একজন সম্মানিত ব্যক্তি, একজন এ গ্রেডের রাষ্ট্রদূত এবং একজন নিরপরাধ ব্যক্তি। তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই।'

'বর্তমান সরকারের সঙ্গে যারা নেই, তাদের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। তাকে ফেরত পাঠানো হলে সে বাঁচবে না', যোগ করেন তিনি।

রিটা জানান, খায়রুজ্জামানকে এর আগে ১৯৯৬ সালে ৩ বছর ৯ মাস কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাকে রাজনৈতিক বন্দী ও প্রিজনার অফ কনসেন্স হিসেবে বিবেচনা করেছিল। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের সময় তিনি মুক্তি পান।

এই আটক রাখার বিষয়টি বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে জেল হত্যার (জাতীয় ৪ নেতা হত্যার) ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে উল্লেখ করেন রিটা। আওয়ামী লীগের এই ৪ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান সন্দেহভাজন ছিলেন।

২০০৩ সাল থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর, খায়রুজ্জামান ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। ২ বছর পর সরকার পরিবর্তনের পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

রিটা আরও জানান, তার স্বামী দেশে ফিরে নিপীড়নের মুখে পড়ার ভয়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ও তার স্বামী অনেক আগেই শরণার্থী হিসেবে সেখানে থাকার অনুমতি পেয়েছিলেন।

'খায়রুজ্জামান কোনো সমস্যা ছাড়াই প্রতি ২ বছর পর পর তার ভিসা নবায়ন করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে, যার কোনো কারণ তারা জানায়নি', রিটা উল্লেখ করেন।

গ্রিন কার্ডের আবেদন

রিতা জানান, তারা তাদের বড় ছেলের সঙ্গে বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী মালয়েশিয়ান পুলিশের কাছ থেকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে সমস্যা হওয়ায় খায়রুজ্জামানকে আবেদন করার ক্ষেত্রে  ঝামেলায় পড়তে হয়েছে।

তিনি তার স্বামীর আটককে 'রহস্যময়' উল্লেখ করে দাবি করেন, অভিবাসন কর্মকর্তারা উচ্চ পদের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরসহ তাদের আমপাংয়ের বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন।

'তার বন্ধুরা তাকে খুঁজতে গেলে তাদের শুধু এটি বলা হয়েছে যে, এটি একটি হাই-প্রোফাইল, গোপন মামলা। কেউ কিছু জানে না। বুধবার সকালে আমি তার সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলাম। তিনি ভালো বোধ করছিলেন না, বিষণ্ণ ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি আমাদের আরেক ছেলেকে নিয়েও চিন্তিত ছিলেন', রিটা বলেন।

তিনি আরও বলেন, 'আমি ভাবছি, তাকে রক্তচাপ ও অন্যান্য অসুখের জন্য ওষুধ খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না। আশা করছি কেউ তার প্রত্যার্পণ আটকাতে পারবে।'

মালয়েশিয়ার একজন আইনজীবী খায়রুজ্জামানকে দেশে পাঠানো থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান রিটা রহমান।