সাবেক রাষ্ট্রদূত খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় আইনি লড়াই
মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে নিয়ে হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন তার আইনজীবী।
গত বুধবার মালয়েশিয়ার আমপাং থেকে মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে (৬৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এর পর তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।
খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৯৭৫ সালে কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার থেকে দেশে ফিরে আসতে বলেছিল।
গত শুক্রবার খায়রুজ্জামানের আইনজীবী এএস ঢালিওয়াল স্থানীয় গণমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে বলেছেন, তিনি তার মক্কেলের জরুরি মুক্তির জন্য আদালতে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করবেন।
কোনো ব্যক্তি যদি মনে করে তাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে, তা হলে তিনি হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করতে পারেন।
ঢালিওয়াল বলেন যে তার মক্কেল মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি ইউএনএইচসিআর-এর কার্ডধারী এবং অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো অপরাধ করেননি। তাই তার গ্রেপ্তার বেআইনি।
তিনি বলেন, খায়রুজ্জামানের বৈধ ট্রাভেল ডকুমেন্ট আছে। তিনি এখানে কোনো কাজ করছেন না। তিনি শুধু তার বাড়িতেই থাকেন। রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ায় মালয়েশিয়া সরকার তাকে প্রত্যার্পণ করতে পারে না। ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইউএনএইচসিআর শরণার্থীদের প্রত্যার্পণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমান টেলিফোনে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে বলেছেন, তার স্বামী গ্রেপ্তার হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। যারা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে নেই তাদের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। ফেরত পাঠানো হলে তিনি বাঁচবেন না।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জইনুদ্দিন বলেছেন, খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ ছিল। মালয়েশিয়া শুধুমাত্র সেই অনুরোধ রক্ষা করেছে।
এর বাইরে হামজা জইনুদ্দিন কোনো মন্তব্য করেননি।
রিটা রহমান জানান, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কোনো অভিযোগ ও বিচার ছাড়াই তিনি ৩ বছর ৯ মাস কারাগারে ছিলেন। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান।
১৯৭৫ সালে জেল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তখন তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
