সুনামির ১১তম বর্ষপূর্তি, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রিয়জনদের স্মরণ

By রাহমান মনি
11 March 2022, 14:56 PM
UPDATED 11 March 2022, 21:02 PM

করোনা মহামারি চলাকালে জাপানের ইতিহাসের ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং পারমাণবিক বিপর্যয়ের ১১তম বছর পালন করল জাপান। দিবসটি পালন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বজনরা অশ্রুসিক্ত, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

২০১১ সালের এই দিনে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি লোকের প্রাণহানি হয়েছিল। নিখোঁজ ২ হাজার ৫২৩ জনকে মৃত ধরা হয়েছিল।

২০১১ সালের ১১ মার্চ ছিল শুক্রবার এবং আজ ১১তম বছরের এই দিনটিও শুক্রবার।

করোনার কারণে জাপান সরকার এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে বড় কোনো আয়োজন করেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা আজ বিকেলে ফুকুশিমা প্রিফেকচারে এক স্মরণ সভায় যোগ দেন।

রেওয়াজ অনুযায়ী দেশটির সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো ১১ মার্চ টোকিওতে নিহতদের স্মরণে নির্মিত এক স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর কথা থাকলেও মহামারীর কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা করা  হয়নি।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

স্বজনরা ঘটনাস্থলে এবং সমুদ্রে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে ১ মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় দেশটিতে। ক্ষণিকের জন্যে থমকে দাঁড়ায় পুরো জাপান। 

২০১১ সালের ১১ মার্চ এই সময়টাতেই ৯ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল জাপানে। ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পের জেরে সুনামি তৈরি হয়। তছনছ হয়ে যায় ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভেসে যায় হংসু দ্বীপ।

সুনামি বিধ্বস্ত ইওয়াতে রিকুজেনতাকাতে একটি পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করেন শোকাহত পরিবারগুলো। স্তম্ভটিতে ওই এলাকার মারা যাওয়া ১ হাজার ৭০৯ জনের নাম লিখা আছে এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা রয়েছে ।

জাপানের পুনর্গঠন মন্ত্রী কোসাবুরো নিশিমে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমরা একটি বটম-আপ পদ্ধতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার জন্য আমাদের সংকল্প পুনর্নবায়ন করেছি এবং এই অঞ্চলগুলো পুনর্গঠন ছাড়া জাপানের পুনরুজ্জীবন হবে না।'

তিনি বলেন, 'এই অঞ্চলে পুনরুজ্জীবনে আমরা এক সঙ্গে সবাই কাজ করে যাব।'

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত রয়ে গেছে। অনেকে আবার অনাগ্রহ থেকে এলাকায় ফেরেননি।

এদিকে দুর্যোগে বিধ্বস্ত অঞ্চলের স্থানীয় পুলিশ সুনামিতে ভেসে যাওয়া দেহাবশেষের কোনো চিহ্নের জন্য ফুকুশিমা এবং ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।

rahmanmoni@gmail.com