ছেলের সঙ্গে কানাডায় অসাধারণ সময় কাটছে ববিতার
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা। তিনি কয়েক মাস আগে একমাত্র ছেলে অনিককে দেখতে কানাডায় যান। সেখান থেকে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
দেশের বাইরে কেমন আছেন?
ভালো আছি। সৃষ্টিকর্তার দয়ায় একমাত্র ছেলের কাছে এসেছি অনেকদিন পর। ছেলেকে কাছে পেয়ে সত্যি ভীষণ ভালো আছি।
মা ও ছেলের সময় কাটছে কীভাবে?
ছেলের সঙ্গে কানাডায় অসাধারণ সময় কাটাচ্ছি। জুলাইতে এসেছি। আমার ছেলে অনিক চাকরি করে। সকালে অফিসে চলে যায় এবং ফিরে আসে সন্ধ্যায়। অনিক বাসায় আসার পর গল্প করি। ওর পছন্দের খাবার রান্না করি। আমাদের মধুর সময় কাটছে। আবার ছেলের ছুটির দিনগুলোতে অন্যভাবে সময় কাটে আমাদের। ওর ছুটির দিনে পরিকল্পনা করে ঘুরতে যাই। যেমন- ওর বাসার কাছে নদী আছে। সুন্দর একটি নদী। অনিককে নিয়ে কানাডার নদীতে মাছ শিকার করেছি। দারুণ সময় কাটিয়েছি। কানাডায় চাচাত বোনের পরিবার আছে। ওদের সঙ্গে ঘুরতে গেছি। এভাবেই কাটছে কানাডার সময়।
আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কোনটি?
ছেলের সঙ্গে কাটানো সময় আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। এটার ভাষা মা ছাড়া কেউ বুঝবে না। মা ও ছেলের সম্পর্ক হচ্ছে মধুর সম্পর্ক। কোভিডের কারণে ইচ্ছে থাকার পরও অনেকদিন ছেলের কাছে আসতে পারিনি। কী যে খারাপ লেগেছে তখন! এখন ছেলেকে কাছে পেয়ে দুনিয়ার সব সুখ আমার কাছে ভিড় করেছে।
কতদিন থাকবেন?
আরও বেশ কিছুদিন থাকব। অল্প কয়েকদিন হলো আমেরিকায় এসেছি। এখানে আমার ২ ভাই ও তাদের পরিবার বাস করেন। ভাইদের কাছেও অনেকদিন পর এলাম। ওদের পরিবারের সঙ্গেও সুন্দরভাবে সময় কাটছে। একদিন সবাই মিলে একটি বাঙালির খামারে গিয়েছি। সেই খামারে দেশি জাতের মুরগি, খাসি আছে। কিনে এনে রান্না করে খেয়েছি। আগামী সপ্তাহে আবারও ছেলের কাছে কানাডায় ফিরে যাব। মা ও ছেলে মিলে আবারও অসাধারণ কিছুদিন কাটিয়ে তারপর দেশে ফিরব।
দেশের জন্য মন কাঁদে নিশ্চয়ই?
অবশ্যই। দেশ আমার আসল ঠিকানা। দেশের জন্য, দেশের মাটির জন্য, দেশের সবকিছুর জন্য মন টানে। জানেন, কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে খবর পাই আমার বাসার ময়না পাখিটি মারা গেছে। প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর আগে ময়না পাখিটি এনেছিলাম। কথাও বলত। আমাকে পপি বলে ডাকত। ভীষণ মায়ায় পড়ে গিয়েছিলাম ময়না পাখিটির। যখন খবর পাই ময়না পাখিটি মারা গেছে-খুব কষ্ট লাগে। চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আর দেশ তো আমার কাছে আরও বড়।
এক সময় ববিতা–ফারুক জুটির অনেক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। নায়ক ফারুকের খবর রাখেন?
অবশ্যই রাখি। খোঁজ-খবরও নিয়েছি। আমাদের দু'জনের সিনেমাগুলো কথা ভুলতে পারব না কখনোই। নয়নমনি সিনেমার গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ফারুক ভাইয়ের জন্য মন থেকে দোয়া করি। তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসুন। পরম করুণাময় তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে দিন।
নিজের অভিনীত সিনেমার জন্য নস্টালজিক হন?
এই মুহূর্তে নস্টালজিক হই না। কেননা অনেকদিন পর আপনজনদের কাছে এসেছি, তাদের নিয়েই আছি। তাদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে চাই।