জায়েদ খানের ভাগ্য আপিল বোর্ডের হাতে
বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচন শেষ হয়েছে ৬ দিন হয়ে গেল। তবুও থামছে না এ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্ক।
সম্প্রতি জায়েদ খান ও কার্যকরী সদস্য চুন্নুর প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান নিপুণ।
সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে শিল্পী সমিতির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ও কার্যনির্বাহী সদস্য চুন্নুর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে দিক নির্দেশনা চেয়ে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবর এক চিঠি দিয়েছেন সোহানুর রহমান সোহান।
সেই চিঠি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ।
নিপুণের অভিযোগ ছিল বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজ করেছেন জায়েদ খানের পক্ষে। আর তাই ফলাফল গিয়েছে নিপুণের বিপক্ষে।
পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হতে জায়েদ খান টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন বলেও দাবি করেছেন নিপুণ৷ নির্বাচনের দিন থেকেই এ অভিযোগ করে আসছেন তিনি৷ জায়েদ ও তার প্যানেলের হয়ে কার্যকরী সদস্যপদে জয়ী চুন্নু ভোটারদের টাকা দিয়েছেন বলে একটি ভিডিও জনসম্মুখে নিয়ে আসেন নিপুণ।
গতকাল বুধবার ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিবন্ধক কর্তৃপক্ষ মো. রকনুল হক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে, সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জায়েদ খান এবং কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী চুন্নু এর প্রার্থিতার ফলাফল ব্যতীত অন্যান্য পদ এর ফলাফল অক্ষুণ্ণ রেখে উক্ত দুজনের বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বরাবরে আপনাকর্তৃক প্রেরিত পত্রটি সংযুক্ত কাগজপত্রসহ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ হিসেবে অদ্য নিম্নস্বাক্ষরকারীর হস্তগত হয়েছে। প্রাপ্তপত্র বিবেচনায় বলা যায় নির্বাচন বিষয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আলাদা দিক নির্দেশনার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
বিষয়টা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে জায়েদ খান বলেন, 'এর আগে আপিল বিভাগের পুনর্গণনা শেষে নিপুণ তার পরাজয় মেনে নিয়ে স্বাক্ষর করেছেন সবার সামনে। নির্ধারিত সময়ের পরে এমন আবেদন মন্ত্রণালয়ের যেতে পারে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটি সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হচ্ছে।'
বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। দু-একদিনের মধ্যে সব জানতে পারবেন।'