ঢাকার চারুকলার প্রাক্তনীদের হাত দিয়েই কলকাতায় প্রথম ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’
এবারই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র আদলে কলকাতায় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’-র আয়োজন করতে যাচ্ছে।
আর সেই মঙ্গল শোভাযাত্রায় স্ট্যাচু থেকে মুখোশ - তৈরিতে সাহায্য করছেন ঢাকার চারুকলারই তিন প্রাক্তনী ওবায়দুল কবির রিক্ত, আরাফাত হোসেইন এবং রীবু আনান।
বলাবাহুল্য, বাংলাদেশে ১৪ এপ্রিল শুক্রবার পহেলা বৈশাখের আয়োজন হলেও প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে পহেলা বৈশাখ পরদিন ১৫ এপ্রিল শনিবার।
সেদিন সকাল আটটার দিকে দক্ষিণ কলকাতার গাঙ্গুলিবাগান থেকে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ শুরু হবে। শেষ হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর গেটের মাঝখানে। এরপর সেখানে দুই বাংলার শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের যৌথ আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। হবে দুই বাংলার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনাও।
দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের তৈরি ‘বাংলা নববর্ষ উদযাপন পরিষদ’ মূলত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র আয়োজন করছে। তবে সঙ্গে শক্তি যোগাচ্ছেন বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী, কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি গবেষক ছাত্র এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ।
বৃহস্পতিবার সকালে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখা গেল। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেভাবে রঙিন মুখোশ এবং বিভিন্ন স্ট্যাচু নিয়ে শোভাযাত্রা বের হবে, অনেকটা সেই রকম ভাবেই কলকাতার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’-তেও তা থাকবে।
বাঘ, লক্ষ্মী পেঁচা, সিংহের রঙ্গিন মুখোশ ছাড়াও বেশ কয়েকটি ঘোড়ার স্ট্যাচু তৈরি করা হচ্ছে। তৈরি করা হচ্ছে কুলো, হাতপাখা এবং সড়ার মতো বাঙালির চিরাচরিত অনুষঙ্গও।
‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’য় পা মেলানো হাজার বাঙালির হাতে, বুকে ঝুলবে অসাম্প্রদায়িকতার স্লোগান। লেখা হচ্ছে সেই সব স্লোগান দিনরাত্রি ধরে। এর সঙ্গে আছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি কলেজ কিংবা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় এবং বাংলাদেশি গবেষক, ছাত্রবৃন্দ।
ঢাকার চারুকলার প্রাক্তনী ওবায়দুল কবির রিক্ত বললেন, “রাত জেগে ঢাকাতেও আমরা একসময় শোভাযাত্রার স্ট্যাচু বানিয়েছি, ছবি এঁকেছি, পট এঁকেছি। আজ কলকাতায় এসে একই কাজ করছি - খুব শিহরিত হচ্ছি আমরা।”
‘বাংলা নববর্ষ উদযাপন পরিষদ’-এর উপদেষ্টামণ্ডলির অন্যতম বর্ষীয়ান সাংবাদিক উর্মি রহমান, দীর্ঘদিন জনকণ্ঠ পত্রিকায় লন্ডন থেকে কলাম লিখেছেন। অনেক বইও আছে বই পাড়ায়। বিবাহিত সূত্রে কলকাতার বাসিন্দা উর্মি রহমান যুক্ত হয়েছে এই ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র আয়োজনের সঙ্গে।
উর্মি রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বললেন, “কলকাতায় ছয় বছর ধরে আছি। লন্ডনেও বাংলা বর্ষবরণের আঁচ পেতাম। কিন্তু কলকাতায় একদম সেই আবহ নেই। বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসব বর্ষবরণের দিন তাই মন খুব খারাপ হতো এখানে। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার কিছু উদ্যোগী মানুষ এমন আয়োজন করতে যাচ্ছেন শুনে আমিও যুক্ত হয়েছি সেখানে।”
আয়োজকদের অন্যতম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. অভিজিৎ চন্দ মনে বলেন, “মানুষে মানুষে মিলনের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র আয়োজন করছেন তারা। এই বছর শুরুর আগেই যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, আশা করছি আগামী বছরগুলোতেও ঢাকার মতো না হলেও কলকাতার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ও সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়বে।”
এখানে বলা প্রয়োজন, বাংলা পঞ্জিকানুসারে বাংলাদেশ ও ভারতে বাঙালির বাংলা বর্ষবরণের উৎসব এক দিনে হচ্ছে না। শুধু মাত্র ব্যতিক্রম অধিবর্ষ বছর গুলোতেই। সেই বছরেই কেবলমাত্র দুই বাংলা মানুষ একইদিন পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সুযোগ পান।