‘বুল্লি বাই’ ভারতে মুসলিম নারীদের সাম্প্রদায়িক হয়রানির নতুন রূপ
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নারী সাংবাদিক কুরাতুলাইন রেহবার গত ১ জানুয়ারি দেখেন যে তাকে বিক্রির জন্য অনলাইনে নিলামে তোলা হয়েছে। গিটহাব নামের একটি অনলাইন প্লাটফর্মে হোস্ট করা 'বুল্লি বাই' অ্যাপে তাকে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানায়, এই অভিজ্ঞতা তার একার নয়। ভারতে শতাধিক মুসলিম নারীকে বক্রির জন্য সেখানে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
সামাজিকভাবে হেয় করতে যাদের এভাবে নিলামে তোলা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমিও আছেন। এ ছাড়া দিল্লি হাই কোর্টের এক বিচারপতির স্ত্রী, বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদকে 'বুল্লি বাই' অ্যাপে নিলামের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্র নাজিব আহমেদের মা ৬৫ বছর বয়সী ফাতিমা নাফিস ও পাকিস্তানের নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের ছবিও আছে সেখানে।
বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পর ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর নাজিব আহমেদ তার বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে নিখোঁজ হন।
Last year I wrote about how muslim women's pictures were auctioned online where women felt haunted and humiliated. Today, after a year seeing my own picture in another trend #bullideals, besides other muslim womens', makes me feel utmost disgusting. https://t.co/AE0N1sInE2
— Quratulain Rehbar (@ainulrhbr) January 1, 2022
মুসলিম নারীদের এভাবে অনলাইনে হয়রানির ঘটনা ভারতে এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়ে 'সুল্লি ডিলস' নামের একটি ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য ছবিসহ নাম উঠেছিল প্রায় ৮০ মুসলিম নারীর। ভারতে 'বুল্লি' কিংবা 'সুল্লি'—হিন্দি শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয় মুসলিম নারীদের অপমান করার জন্য। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা এই দুটি শব্দ ব্যবহার করে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট অল্টনিউজের সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, এবারের অ্যাপটিতে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি পাঞ্জাবি ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে সুল্লি ডিলসের নিলামের তালিকাতেও ছিলেন কাশ্মিরী সাংবাদিক রেহবার। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, 'সেবারও অ্যাপটিতে নিজের ছবি দেখে তিনি হতবাক হয়েছিলেন।' রেহবার বলেন, 'ছবি দেখার পর আমার গলা ভারী হয়ে আসে, আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায় ও অসাড় হয়ে পড়ি। সেটা ছিল ভীষণ অপমানজনক।'
রেহবার বলেন, 'মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সাইট গিটহাবে নারীদের আক্ষরিক অর্থে বিক্রি করা হয় না। মুসলিম নারীদের মধ্যে যারা অধিকার নিয়ে সোচ্চার তাদের অসম্মান করার উদ্দেশ্যে এই কাজগুলো করা হচ্ছে।'
গত শনিবার সন্ধ্যায় যে নারীদের ছবিসহ বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরে নিলামের ডাক দেওয়া হয় তারা তাদের প্রতিবাদের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে একজন নয়াদিল্লির ইসমত আরা। পেশায় সাংবাদিক ইসমত মুসলিম নারীদের হয়রানির অভিযোগে সেদিনই দিল্লির একটি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়েও বেশ কয়েকটি টুইটার হ্যান্ডেল ও বুল্লি বাই অ্যাপের ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী নারী মামলা করেছেন।
তবে পুলিশের তদন্তের ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী নন ইসমত। কারণ, সুল্লি ডিলস সামনে আসার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।