অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনায় ২৪ নাগরিকের উদ্বেগ, বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একটি কলেজের অধ্যক্ষকে এমপির মারধরের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন ২৪ নাগরিক। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষককে মারধর করার যে ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে তাতে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন—তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার প্রমুখ।

তারা বলেছেন, রাজশাহীর কলেজের অধ্যক্ষকে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী কর্তৃক মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, লাঞ্ছনা, অবমাননার ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। ক্ষেত্রবিশেষে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে শিক্ষকদের নির্যাতন করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, গত ৭ জুলাই রাজশাহীতে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে ডেকে একজন কলেজ শিক্ষককে নির্মমভাবে পেটানোর যে বর্ণনা আমরা গণমাধ্যমে পেয়েছি, তাতে আমরা বিস্মিত, স্তম্ভিত ও উদ্বিগ্ন। একজন আইন প্রণেতা আইন লঙ্ঘন করতে পারেন না। একজন সংসদ সদস্যের কলেজ শিক্ষককে এভাবে পেটানোর ঘটনা ন্যাক্কারজনক। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সমাজের সম্মানজনক পেশা শিক্ষকতায় নিয়োজিতদের সম্পর্কে যে ঘৃণ্য অবমাননাকর মনোভাব প্রকাশ করেছেন, তাতে তিনি সংসদ সদস্যেও শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে আমরা মনে করি।

এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি স্পিকারের রুলিং প্রদানসহ সংসদ সদস্য ওমর ফারুককে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণ অনুসন্ধানসহ ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

বিবৃতি আরও স্বাক্ষর করেছেন— ডা. সারওয়ার আলী, ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন; অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ; ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সভাপতি, মহিলা পরিষদ; ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সভাপতি, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি; এস.এম.এ সবুর, সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি; খুশী কবির, মানবাধিকার কর্মী; রোকেয়া কবির, উন্নয়ন কর্মী; এম. এম. আকাশ, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন; অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; আবদুল ওয়াহেদ, কার্যকরী সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক জোট; ড. সেলু বাসিত, গবেষক ও সংস্কৃতি কর্মী; অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি; আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব); অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত, সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ; এ কে আজাদ, সংস্কৃতি কর্মী; অলক দাস গুপ্ত, সংস্কৃতি কর্মী; দীপায়ন খীসা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এবং সেলিম রেজা, আহবায়ক, সংস্কৃতি মঞ্চ।