পঞ্চগড়ে দম্পতিকে একঘরে: পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ আদালতের
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় মৌখিক তালাকের পরে হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় দিনমজুর আয়নাল হক ও জামিরন বেগমকে একঘরে করে রাখার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার দুপুরে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গতকাল রাতে তিনি আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে পেয়েছেন। আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ১১ আগস্ট এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের সলিমনগর এলাকায় মৌখিক তালাকের জের ধরে এক দিনমজুর দম্পতিকে সমাজপতিদের (মাতবর) একঘরে করে রাখার ঘটনাটি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুকে) ছড়িয়ে পড়ে, যা আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯১(১) সি ধারায় বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মুসলিমদের বিবাহ ও তালাক সম্পাদিত হয় মুসলিম শরিয়াহ আইনের নির্ধারিত বিধি বিধানের আলোকে। শরিয়াহ আইনের মূল ভিত্তি হলো পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিস। কোরআন ও সহিহ হাদিসের বিধিবিধানের আলোকে একজন মুসলিম এক বৈঠকে বা একসঙ্গে একাধিকবার তালাক শব্দটি উচ্চারণ করলেও তা এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে। কখনও তিন তালাক হবে না। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর সমঝোতায় পুনরায় বিবাহ ছাড়াই সংসার করতে বাধা থাকবে না। অথচ দেখা যাচ্ছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের সলিমনগর এলাকায় স্থানীয় সমাজপতি ও ধর্মীয় নেতারা মনগড়া ফতোয়া দিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ওই এলাকার আয়নাল হক ও জামিরন বেগম দম্পতিকে চার মাস ধরে একঘরে করে রেখেছে। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী যা গুরুতর অপরাধ।
পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আমিনুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত যে কোনো সময় এ ধরনের আদেশ দিতে পারেন।