আইজিপির জার্মানি সফর: জিওতে অসাবধানতাবশত ভুল বিভ্রান্তি তৈরি করেছে: পুলিশ সদরদপ্তর
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা সরকারি আদেশে অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে পুলিশ মহাপরিদর্শকের জার্মানি সফর নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।
আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বার্তায় পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান বলেন, 'দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ক্রয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সরকারি ক্রয় নীতিমালা অর্থ্যাৎ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) অনুসরণ করেই এ ধরনের কেনাকাটা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এসব ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কর্তৃক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনের সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।'
বার্তায় আরও জানানো হয়, 'এ সফরকে কেন্দ্র করে যে সরকারি আদেশ বা জিও জারি হয়েছিল তাতেও অসাবধানতাবশত ভুল রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে জিওটি পড়লে বোঝা যাবে, আইজিপি মহোদয় এক লাখ বিছানার চাদর ও বালিশের কভার কিনতেই জার্মানি যাচ্ছেন। অথচ বিষয়টি তা নয়। চাদর ও বালিশের কাভার কোনোটিই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে না। জিওর শব্দগত বিন্যাসের কারণেই এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আদেশ সঠিকভাবে সংশোধন না হলে আইজিপি জার্মানি সফর করবেন না। এ বিষয়ে আগামীকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে সদর দপ্তর।
সোমবার জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে ২ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো সময় ইউরোপের দেশটিতে আইজিপিসহ তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নয় দিনের সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুসারে, বালিশের কাভার (ডাবল) সহ ১ লাখ পিস বেডশিট চালানের সাথে সম্পর্কিত 'ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (এফএটি)' এর জন্য আইজিপি এবং অন্য দুই কর্মকর্তা জার্মানি সফরে যাচ্ছেন।
অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ফিরোজ উদ্দিন খলিফা এবং আইজিপির স্টাফ অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ আলম।
২ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বা কাছাকাছি সম্ভাব্য তারিখ থেকে এই 'এফএটি' হবে। মন্ত্রণালয়ের আদেশে যোগ করা হয়েছে যে আয়োজকরা কর্মকর্তাদের সমস্ত ভ্রমণ ব্যয় বহন করবে এবং কোনও সরকারি তহবিল ব্যয় করা হবে না।
বৃহস্পতিবার, কামরুজ্জামান বলেন, স্থানীয় একটি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করবে এবং পুলিশকে সরবরাহ করবে।
দরপত্র অনুযায়ী, কোম্পানিটিকে একটি ইউরোপীয় দেশ থেকে মানসম্পন্ন ডাই ব্যবহার করতে হবে এবং একটি দল সেই ডাইয়ের গুণগত মান মূল্যায়নের জন্য সেখানে যাবেন, বলেন তিনি।
কামরুজ্জামান বলেন, 'যেহেতু এতে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিষয় জড়িত, সেহেতু আইজিপি বেনজীর আহমেদ স্যার নিজেই গুণগত মান যাচাই করতে জার্মানি যাবেন।'
পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নোমান গ্রুপ সাড়ে ১৭ কোটি টাকার বেডশিট এবং বালিশের কাভার সংগ্রহের জন্য গত বছরের ৭ অক্টোবর দরপত্র জিতেছিল।