আজও গ্যাসের স্বল্প চাপ, ইফতারে রাজধানীবাসীর ভোগান্তির আশঙ্কা
প্রথম রমজানের মতো আজও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানসহ আশপাশের এলাকায় ইফতারের সময় গ্যাস না থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানায় ৬টি কূপ থেকে গতকাল রোববার হঠাৎ গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়।
ফলে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ দিনভর রোজা রেখে সন্ধ্যায় বাসার বাইরে থেকে খাবার এনে ইফতার করতে বাধ্য হয়েছেন।
আজ রমজানের দ্বিতীয় দিনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পেট্রোবাংলার এক 'জরুরি' সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য হ্রাসকৃত হারে গ্যাস সরবরাহের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস স্বল্পতার সৃষ্টি হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতেতে আগের দিনের মতোই 'সাময়িক এ অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ' করে বলা হয়, 'রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে'।
শেভরন বাংলাদেশের আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে।
'গ্যাসক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ দুটো প্রসেস ট্রেনের মধ্যে একটি ইতোমধ্যেই ঠিক করা হয়েছে। বন্ধ থাকা কূপগুলোর একটি থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে,' বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এতে আরও বলা হয়, গ্যাস উৎপাদনে কিছু অসঙ্গতির কারণে গত ৩ এপ্রিল দুটো 'প্রক্রিয়াজাত ট্রেন' ও ৬টি কূপ থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়।
কর্মীদের সুরক্ষা, গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশের এলাকা ও পরিবেশের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে 'দ্বিতীয় ট্রেন' ও বাকি কূপগুলোকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
অপরিকল্পিতভাবে গ্যাস উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণও তদন্ত করে দেখা হবে বলে শেভরনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর জিগাতলা, শ্যামলী, কল্যাণপুর, আগারগাঁও, শ্যাওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, আদাবর, বনশ্রী, রামপুরা, বসুন্ধরা আবাসিক, আজিমপুর, লালবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, মতিঝিল, সেগুনবাগিচা, নারিন্দা, ওয়ারিসহ পুরাণ ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকা এবং মিরপুর ১, ২, ১০ নম্বর এলাকায় গ্যাস সংকট ছিল।
আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রান্নার চুলায় গ্যাস আছে, তবে চাপ কম।
দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা সুলতানা রাজিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গতকাল ইফতারের আগে গ্যাস ছিল না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ইফতার কিনতে হয়েছে। সে আশঙ্কা থেকে আজ দুপুরেই ইফতার তৈরি শুরু করেছি।'
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিবিয়ানা থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গতকাল রাতেই ৬০-৬৫ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। আজ দিনের মধ্যে ১৬০-১৬৫ এমএমসিএফডি পাওয়া যাবে। বাকিটা যত দ্রুত পারা যায়, পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'
