আপস করব জনগণের সাথে, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজীর সাথে নয়: মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে আইভী

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তিনি বলেন, 'দল মত নির্বিশেষে সকলের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করব। আমার অবস্থান যে রকম ছিল অতীতে সেইরকম থাকবে। কোনো রকম আপসের মনোভাব নিয়ে আমি এখানে আসিনি। আমি আপস করব জনগণের সাথে কাজের জন্য, কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনো সন্ত্রাস চাঁদাবাজীর সাথে নয়।'

আজ রোববার দুপুরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন নগর ভবনের অস্থায়ী কার্যালয়ে নতুন মেয়াদে কাজ শুরুর প্রথম দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) আবুল আমিনসহ নির্বাচিত কাউন্সিলরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকে টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে আইভী পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট।

২০১১ সালের ৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। সেই বছর প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে এবং ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন আইভী। এর আগে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, 'আমি নতুনভাবে এসেছি। কিন্তু আমি নতুন না পুরাতনই। দীর্ঘদিন আমি এখানে কাজ করেছি সবার সাথে। এবার নতুন কিছু কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে। আমি তাদের স্বাগত জানাই। আশা করছি, সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জনগণের চাহিদা মোতাবেক আমরা কাজ করব। আপনারা বিগত সময়েও দেখেছেন, আমি সাধারণ মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে মানুষ যা চায় এ শহরকে সেইভাবে করার চেষ্টা করেছি।'

তিনি বলেন, 'আমাদের সহযোগিতা করবেন যাতে পরিষদ সাধারণ মানুষের চাহিদা মোতাবেক কাজ করতে পারে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ অত্যন্ত আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভোট দিয়েছে। আপনারা সবাই পাশ করে এসেছেন। এর মানে এই নয় যে, আপনাদের যারা ভোট দিয়েছে তাদের প্রতিই শুধু আমরা কাজ করব আর যারা দেয়নি তাদের না। আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, অতীতে যে রকম এ সিটি করপোরেশন ছিল, সব কিছুর ঊর্ধ্বে, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আমি কাজ করেছি। আমি আমার পরিষদকে আহবান জানাবো, আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করব। এখানে কোনো ধরনের দলাদলি, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী, কোনো কিছু হতে পারবে না। আমি ১৮ বছর যেভাবে কাজ করেছি সেই ভাবেই আমি এখানে কাজ করবো। আশা করি আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। নগরবাসী সহযোগিতা করবে।'

তিনি আরও বলেন, 'যেসমস্ত কাজ আমাদের চলমান আছে, সেগুলো প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। সেই কাজগুলো আমরা তড়িৎগতিতে শেষ করব। কাজ শুরু করতে হবে বলে আমি অস্থায়ীভাবে এখানে উঠেছি। তবে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরই আমি নতুন কার্যালয়ে যাব।'

প্রথম কী কাজ দিয়ে শুরু করবেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, 'কাজ চলমান আছে। আমি আজকে থেকেই কাজ শুরু করেছি। প্রথম কী কাজ করবো সেটা নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না। তবে মেগা প্রজেক্টের মধ্যে কদম রসুল ব্রিজকে (শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সেতু) ও জালকুড়ি এলাকায় ময়লা আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সেটাকে প্রাধান্য দিয়ে ৬টি মেগা প্রজেক্ট শেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বাকি কাজগুলো চলমান থাকবে। কাজ কিন্তু থেমে থাকে না। নতুন নতুন প্রজেক্ট আমরা হাতে নেবো। যে চাহিদা মানুষের ছিল, নির্বাচনের সময় ২৭টি ওয়ার্ডে ঘুরেছি। তখন বিভিন্ন ধরনের চাহিদা ছিল সেইগুলো দ্রুত করার চেষ্টা করব।'

বিকেলে মেয়র আইভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মঞ্জুরুল হাফিজ ও পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম। এসময় তাদের মধ্যে নগরীর যানজট নিরসন, ত্বকী হত্যার বিচার, মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়ে পত্রিকা অফিসে হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।