আশুলিয়ায় ঈদের ছুটি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
সাভারের আশুলিয়ায় উৎসব বোনাস ও ঈদের ছুটি বাড়িয়ে ১০ দিন করার দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ, ইটপাটকেল ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছ।
শ্রমিকদের দাবি, এ ঘটনায় ১০ শ্রমিক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ দাবি করেছে, শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পলাশবাড়ী এলাকার একটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর পুলিশি হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। দুপুর দেড়টার দিকে যানচলাচল স্বাভাবিক হলেও কারখানাটির সামনে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ৭ দিনের ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। রমজান মাসে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়েছে। বোনাস দিলেও বেসিক বেতনের অর্ধেক দিয়েছে। এটা কোনো কারখানা করে না। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষকে ১০ দিন ছুটি ও মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাসের দাবি জানানো হলে তারা টালবাহানা শুরু করে।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তারা ন্যায্য বোনাস ও ১০ দিনের ছুটির দাবিতে রাস্তায় নামলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বিষয়টি জানতে স্কাইলাইন কারখানার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
তিনি এই প্রতিবেদককে আইডি কার্ড নিয়ে কারখানায় গিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান বলেন, 'ঈদের ছুটি ও বোনাসের দাবিতে স্কাইলাইন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা সড়ক অবরোধ করে বেশ কিছু পরিবহনে ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে আমাদের ৪-৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমরা শ্রমিকদের পরে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।'
এ বিষয়ে আশুলিয়া শিল্পপুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক হোসেন খান দ্য ডেইলি স্টারকে মুঠোফোনে বলেন, 'ঈদের ছুটি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের ঝামেলা হয়েছিল। শ্রমিকরা ১০ দিনের ছুটি চেয়েছে, কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ দিয়েছে ৭ দিন। এ নিয়ে দুপুর ১টার দিকে তারা সড়কে নেমে পড়ে। আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছি। শ্রমিকরা কারখানার বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন আছে। আমরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।'