আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হামলা-গুলির অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

সাভারের আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুর ও কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়ার নরশিংহপুরের ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে আনজুমান গ্রুপের আনজুমান ডিজাইনার কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় আশুলিয়া থানা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি আবু সামা মৃধা ও তার কর্মচারী সোহেলকে মারধর করা হয়েছে।

শ্রমিক লীগ নেতা আবু সামার মৃধার স্ত্রী সেলিনা আক্তার দ‍্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে বাসার পাশেই আমাদের যায়গায় অবস্থিত কারখানায় ঝুট ব্যবসা করেন। আজ ২টার দিকে আমার স্বামী তার অফিসে কয়েক জনকে নিয়ে বসেছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাহুদুর মৃধা ও রনির নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন অতর্কিত তার ওপর হামলা চালায়।'

তিনি আরও বলেন, 'এ সময় তারা আমার স্বামী ও সেহেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে এবং আমার স্বামীর অফিস ভাঙচুর করে। পরে রনি ভূঁইয়া কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করেন।'

আহত ২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফার্নিচার দোকান মালিক রিপন বলেন, 'আমি দোকানে কাজ করছিলাম। এ সময় রনিসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তা দিয়ে যান। পরে রনির কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে ৪ রাউন্ড গুলি ছুড়েন। আমি ভয়ে দোকান বন্ধ করে দেই।'

এ বিষয়ে জানতে বাহাদুর মৃধা ও রনি মৃধার মুঠোফোনে কল করলে তাদের ২ জনের ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।

কারখানাটির জেনারেল ম্যানেজার মো. তাওস খাঁন জনি দ‍্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের কারখানায় প্রায় ৭০০ শ্রমিক আছেন। বেশ কিছুদিন ধরে বাহাদুর মৃধা আমাদের এখান থেকে ঝুট নিয়ে যান। কারখানাটি ৪ জনের যায়গায় হওয়ায় ৪ জনই বছরের বিভিন্ন সময় ঝুট ব‍্যবসা দখল নিতে ঝামেলা সৃষ্টি করেন।'

তিনি আরও বলেন, 'আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে যখন শ্রমিকরা দুপুরের খাবার খেতে বাসায় যায় ঠিক তখন হঠাৎ কারখানা সামনে গুলির শব্দ শুনতে পাই।'

'বাহাদুর মৃধা ও সামা মৃধার মধ্যে এ ঝামেলা হয়েছে,' বলে যোগ করেন তিনি।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আওয়াল হোসেন দ‍্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনার পর আমি সেখানে যাই। ততক্ষণে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। সেখানে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটা সংঘর্ষ হয়েছে৷ যাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে তাদের উভয় পক্ষের সঙ্গেই আমি মুঠোফোনে কথা বলেছি। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।'

গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমি গোলাগুলির কোনো আলামত পাইনি। যদি কোনো পক্ষ আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'