ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব ৪-৫ মাস পর বোঝা যাবে: ভূমিমন্ত্রী
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব এখনো পড়েনি, যুদ্ধ শেষ না হলে আগামী ৪-৫ মাস পর এর প্রভাব বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
আজ মঙ্গলবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, 'আমরা ২ বছর যুদ্ধ করেছি করোনার বিরুদ্ধে। এমনিতেই উৎপাদন কমে গেছে। হাই ফুড ইনফ্লেশন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয়। সব সরকার এটা মোকাবিলা করছে। কোভিড থেকে উঠতে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। তেলের দাম বেড়ে গেছে, এটা একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।'
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী দেখছেন উপলব্ধি করছেন মানুষ যে কষ্ট পাচ্ছেন। টিসিবির গাড়ির পেছনে লম্বা লাইন হচ্ছে আমরা সবাই দেখছি। আমরা চেষ্টা করছি মানুষকে একটা কমফোর্ট জোনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বাস্তবতা আমাদের মানতে হবে। যুদ্ধের ইফেক্ট এখনো আসেনি। আগামী ৪-৫ মাস পর বোঝা যাবে যুদ্ধ যদি শেষ না হয়।'
মাদককে আন্তর্জাতিক সমস্যা আখ্যায়িত করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, 'হতাশার জন্য মাদক কোনো কথা হতে পারে না। বড়লোকের ছেলেরা কেন নেশা করে? তাদের কীসের হতাশা? এটা তাদের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। যে কোনো মূল্যে এটা বন্ধ করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা।'
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, 'মাদক একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের দেশের পাশেই গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্ট। এখানে মাদকের বিভিন্ন ভ্যারাইটি আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা ৫ বছর পর একটি অসার জাতি পাবো।'
'ভৌগলিক অবস্থানের কারণে মাদকের অপব্যবহার শূন্যে আনা সম্ভব নয়' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'প্রযুক্তিগত কারণে আমরা ঠিকানাবিহীন লেনদেন ঠেকাতে পারছি না। মাদকের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট দেওয়ার কারণে আমাদের এখানে মাদকের মামলা বাড়ছে।'
দেশের কারাগারগুলোতে ৬০ শতাংশ বন্দি মাদক মামলার আসামি বলে জানা তিনি।
তিনি বলেন, 'এই মাদক মামলার আসামিরা কারাগারে থাকার কারণে কারাগারের অনেকেই মাদক ব্যবসা জড়িত হচ্ছে, আবার চাকরিচ্যুত হচ্ছে। মাদকসেবীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।'
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মণ্ডল তার বক্তব্যে বলেন, 'সচেতন না হলে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অসম্ভব।'
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আশরাফ উদ্দিন।