উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ‘আইডি হ্যাক’ হয়ে টাকা গায়েব, বেতনসহ সব লেনদেন বন্ধ
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসিয়াল 'আইডি হ্যাক' হয়ে অন্তত ২৬ লাখ টাকা গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ওই আইডি বন্ধ করে দেওয়ায় বেতন-ভাতা তুলতে পারছেন না ইউএনওসহ ১ হাজার ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এ ঘটনার পর সোমবার উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক (প্রশাসন) এস এম নিয়ামুল পারভেজের সই করা বদলির আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাংশা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই কার্যালয় থেকে উপজেলার ১ হাজার ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাবতীয় সরকারি বেতন-ভাতা ও পাওনাদি পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে আছেন উপজেলা পরিষদের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বিল।
কিন্তু হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার 'আইডি হ্যাক' হয়ে টাকা গায়েব হওয়ার পর আইডি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে কাউকে টাকা দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পাংশা উপজেলা কমিটির সভাপতি শরীফুল হুদা সাগর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের শিক্ষকরা সবাই খুব দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। বিষয়টির দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হওয়ার জরুরি।'
বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ বলেন, 'এখন রমজান মাস চলছে। টাকার দরকার অনেক। কিন্তু টাকা পাচ্ছি না। অনেক সমস্যায় আছি।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, 'উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনৈতিক লেনদেন করেন। এই হ্যাক করার ঘটনায় কর্মকর্তা নিজেও জড়িত।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ সঠিক নয়। আমাকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। আজ সকালে বদলির আদেশপত্র পেয়েছি।'
জানতে চাইলে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত ১৭ মার্চের দিকে বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার আইডি হ্যাক করে প্রায় ২৬ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। এটি একটি বড় ঘটনা। এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।'
বিষয়টি জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দেখভাল করছেন বলে জানান তিনি।
যোগাযোগ করা হলে জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ২৬ লাখ টাকা খোয়া গেছে। বিষয়টি জানার পর প্রধান কার্যালয় থেকে ওই হিসাব বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কে বা কারা আইডি হ্যাক করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'
'আমাকে আজ থেকে পাংশার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এখন আমার আইডি-পাসওয়ার্ড দিয়ে বেতন ভাতা দেওয়া হবে। বিষয়টি অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।'