কর ও ভ্যাট কমানো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নোয়াব
সংবাদপত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কর কমানোসহ অন্যান্য বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
আজ শনিবার নোয়াবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় সংবাদপত্রশিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে টাইমস মিডিয়া লিমিটেড ভবনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ।
সভায় উপস্থিতি ছিলেন আজাদী সম্পাদক ও প্রকাশক এম এ মালেক, ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দৈনিক সংবাদ সম্পাদক ও প্রকাশক আলতামাশ কবির, ভোরের কাগজের তারিক সুজাত, বণিকবার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
সভায় জানানো হয়, সারা পৃথিবীতেই প্রিন্ট মিডিয়ার অবস্থা ভালো নয়। সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন আগে থেকে কমছিল, করোনা মহামারিকালে তা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
নিউজপ্রিন্টের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে জানিয়ে বলা হয়, দেড় বছর আগে প্রতিটন নিউজপ্রিন্টের দাম ছিল ৫৭০ ডলার, যা এখন ৮৯০ ডলার। এছাড়াও করোনাকালে বিজ্ঞাপন বাজার ৫৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে তা আরও কমেছে। করোনা মহামারির আগে মোট বিজ্ঞাপনের ২০ শতাংশ আসত সংবাদপত্রে, যা এখন কমে ১৫ শতাংশ হয়েছে বলে জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, সেবা শিল্প হলেও সরকারের কাছ থেকে বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে না সংবাদপত্রশিল্প। করোনাকালেও সরকারের কাছ থেকে এ শিল্প প্রণোদনা পায়নি। সংবাদপত্র সেবা শিল্প হলেও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, অনিবন্ধিত কোম্পানি ও নন-রেসিডেনশিয়াল শ্রেণিতে রেখে ৩০ শতাংশ করপোরেট কর নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ মুনাফা অর্জনকারী শিল্পের কর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। রুগ্ন শিল্প হিসেবে সংবাদপত্রশিল্পের করপোরেট কর এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
সভায় বলা হয়, সংবাদপত্রের প্রধান কাঁচামাল নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। যা শূন্য ভ্যাট বা সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ হওয়া উচিত। বিজ্ঞাপনে আয়ের ওপর চার শতাংশ উৎস কর (টিডিএস) এবং উৎসস্থলে কাঁচামালের ওপর পাঁচ শতাংশ আগাম আয়কর (এআইটি) দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৯ শতাংশ কর দিতে হয়। অথচ অধিকাংশ সংবাদপত্রের ৯ শতাংশ লভ্যাংশ থাকে না। টিডিএস দুই শতাংশ এবং এআইটি শূন্য করা জরুরি। সংবাদপত্র কর্মীদের আয়কর মালিকরা দেন। কর্মীদের বেতনের ৭০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া। তার পুরোটাই করমুক্ত করা প্রয়োজন বলে সভায় বলা হয়েছে।
এর আগে কমিটির প্রথম সভায় নোয়াব সদস্য রিয়াজউদ্দীন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। গত ২৫ ডিসেম্বর ৭৬ বছর বয়সে মারা যান তিনি। রিয়াজউদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ১৯৯৩ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য এ বছর একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ায় নোয়াব সদস্য এম এ মালেককে অভিনন্দন জানানো হয় সভায়। এম এ মালেক মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় আজাদী সম্পাদনা করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর তার সম্পাদনায় স্বাধীন দেশে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। 'জয় বাংলা-বাংলার জয়' শিরোনামের প্রধান প্রতিবেদনটি ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে।