বরিশাল আবার বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডারে পরিণত হবে: কৃষিমন্ত্রী
পতিত জমিতে চাষাবাদ এবং এক ফসলি জমিকে দুই-তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরের মাধ্যমে বরিশালকে আবার দেশের শস্যভাণ্ডারে পরিণত করার ব্যাপারে আশার কথা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি জানান, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলছে। লবণাক্ততার সমস্যা আছে এমন এলাকায় দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন করা লবণ-সহিষ্ণু উন্নত জাতের ধান, মুগ ডাল, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
আজ সোমবার সকালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাকেরকাঠি ও নন্দপাড়া গ্রামে পতিত জমিতে বোরো ধান আবাদের ফসল কর্তন উৎসব ও মাঠ দিবসে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
উপকূলীয় জেলাগুলোর সমস্যা সম্পর্কে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের বেশির ভাগ জমিতে বছরে একটি মাত্র ফসল আমন ধান হয়; আর বাকি সময় পতিত থাকে। এ বিপুল পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে সরকার নিরলস কাজ করছে।
বাকেরকাঠি গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা পতিত জমিতে প্রথমবারের মতো বোরো ধান চাষ হয়েছে। লো-লিফট পাম্পের (এলএলপি) মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করে কৃষকদেরকে চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লো-লিফট পাম্প, খাল খনন-পুনঃখনন ও পাওয়ার টিলার সরবরাহ করার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সম্পৃক্ত করে এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এটি করতে পারলে এসব এলাকার কৃষিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে। পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে। অন্যদিকে এক ফসলি জমি দুই-তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। এর মাধ্যমে বরিশাল আবার বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডারে পরিণত হবে।
পরে দুপুরে কৃষিমন্ত্রী পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর ও করমজাতলা গ্রামে মুগ ডালের মাঠ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, পটুয়াখালী, ভোলাসহ এ অঞ্চলে মুগ ডালের সম্ভাবনা অনেক। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার কৃষকদেরকে উন্নতমানের বীজসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বারি মুগ ডাল-৬ এর উৎপাদনশীলতা অনেক ভালো। বিঘা প্রতি ৫-৬ মণ হয়। এ বছর শুধু পটুয়াখালী জেলাতেই প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে মুগ ডাল চাষ হয়েছে। আর পটুয়াখালী ও ভোলা দুই জেলা মিলে বছরে ২ লাখ টন মুগ ডাল উৎপাদন হয়। মুগ ডালের চাষকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
মুগ ডালের মাড়াই সমস্যা সমাধানের জন্য যন্ত্র দেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের বিজ্ঞানীরা মাড়াইযন্ত্র তৈরি করেছে, যার দাম ৬০-৭০ হাজার টাকা। আগামী বছর ভর্তুকি মূল্যে এ যন্ত্র কৃষকদের দেওয়া হবে। এর ফলে দাম পড়বে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কম পড়বে ও তারা লাভবান হবেন।