কোস্টগার্ডের জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণের টাকা না পেয়ে গ্রামবাসীর বিক্ষোভ
কোস্টগার্ড জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন গ্রামবাসী।
জমির ন্যায্যমূল্য প্রদান ও পুনর্বাসনের আগে ডকইয়ার্ড নির্মাণ শুরুর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে গজারিয়া ও নয়ানগর এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক জমির মালিক এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পরে দুপুরে তারা গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী নয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা মীর মো. ফেরদৌস জানান, আগে তিনি জমিতে কৃষিকাজ করতেন। অধিগ্রহণ করা জমিতে কিছু বাড়িঘরও ছিল। ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়ে কোস্টগার্ড স্থাপনা নির্মাণকাজ চালু রেখেছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, কোস্টগার্ড জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়েই সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিপূরণের টাকা ২০২১ সালের আগস্ট মাসে পাওয়ার কথা ছিল।
যোগাযোগ করা হলে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, 'স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।'
'এসব তথ্য পাওয়ার পর ক্ষতিপূরণের টাকার বিষয়ে বলা যাবে,' বলেন তিনি।
জানতে চাইলে নির্মাণাধীন কোস্টগার্ডের ডকইয়ার্ডের প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার মো. মিজান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গজারিয়ার মেঘনা নদীর তীরে কোস্টগার্ডের জাহাজসহ সব ধরণের নৌযান মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ড নির্মাণ করা হচ্ছে।'
'চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'জেলা প্রশাসনে কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় এতে দেরি হচ্ছে।'
এখানে প্রায় সাড়ে ১২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
'জেলা প্রশাসনের অনুমোদন না পেলে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আশা করছি ১৫-২০ দিনের মধ্যে দেওয়া যাবে,' বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, 'অধিগ্রহণ করা জায়গায় নদীতে বাঁধ নির্মাণের ব্লক রাখা হয়েছে। চলতি মৌসুমে কাজ চালু না করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে না।'