গাজীপুরে কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কুনিয়া বড়বাড়ী এলাকায় 'লিজ এপারেলস' নামের একটি কারখানা বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।
আজ শনিবার সকালে কারখানায় কাজে যোগ দিতে এসে বন্ধের নোটিশ দেখতে পেয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
কারখানাটির মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (কোয়ালিটি কন্ট্রোলার) শরীফ হোসেন জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি বছর শ্রমিকদের ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির নিয়ম আছে। তবে জানুয়ারির শুরু থেকে এ ব্যাপারে তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার দাবি জানালেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি।
এর মধ্যেই গত বুধবার ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে কারখানার কম্পাউন্ডে অবস্থান নেন। পরে কারখানার ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং পুনরায় কারখানায় কাজে যোগ দিতে বলেন। ওইদিন এ ঘটনায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন এবং কারখানা এলাকা ত্যাগ করেন।
শ্রমিকরা জানান, গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আজ সকালে কারখানার প্রধান ফটকে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখেন তারা। এরপর তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে শ্রমিক-পুলিশ তর্ক হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
ওই কারখানা পরিচালক গাজী মোহাম্মদ জাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, 'কারখানার শ্রমিকরা বুধবার কারখানা কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ অমান্য করে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করেন এবং এক কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করেন। বিক্ষোভরত শ্রমিকরা কারখানার ফ্লোরে ঢুকে কম্পিউটার, সিসি টিভি, ল্যাপটপ ভাঙচুর, আসবাবপত্র তছনছ এবং অফিস থেকে ১৫ লাখ টাকা চুরি করেছেন। এসব ঘটনায় শ্রম আইনের ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী আজ থেকে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।'
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, পুলিশ লাঠিচার্জ ছাড়াও তিন রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস শেল ও ৫৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।