চট্টগ্রামে ১০ বছরে ট্রাফিক পুলিশের জনবল বাড়েনি: সিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

নগরীতে জনসংখ্যা ও গাড়ি চলাচল উল্লেখ্যযোগ্য হারে বাড়লেও ১০ বছর আগের জনবল দিয়েই চলছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

আজ বৃহস্পতিবার নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সিএমপির সদর দপ্তরে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিদায়ী পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

তিনি বলেন, 'ট্রাফিকের জনবল ৮ থেকে ১০ বছরের আগের। বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে সেইসঙ্গে রাস্তায় ট্রাফিকের চাপও বেড়েছে অনেক। আমার সময়ের কথা যদি বলতে চাই তাহলে আমি বলবো ট্রাফিক নিয়ে আরো অনেক কিছু করার আছে। সন্তুষ্টির জায়গায় ট্রাফিককে আমি রাখতে পারিনি।'

সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সিএমপির ৩০তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে ১ বছর ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জায়গায় ৩১তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।

বিদায়ী কমিশনার বলেন, 'আমরা অনেকগুলো প্রপোজাল দিয়েছি বিভিন্ন জায়গায়। সিটি করপোরেশন, সিডিএ-সহ বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছি আমরা। চট্টগ্রামে বিমানবন্দর, পতেঙ্গায় টানেল থেকে শুরু করে অনেকগুলো উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। শহরে রাস্তায় অনেকেই গাড়ি রাখেন। আমরা চসিককে "পে পার্কিং" নিয়ে প্রপোজাল দিয়েছি। রাস্তায় ওপর গাড়ি রাখলে চসিককে টাকা দিতে হবে। এছাড়া গণপরিবহনকে শৃঙ্খলায় আনতে আমরা অনেক কাজ করেছি যার সুবিধা কিছুটা নগরবাসী পাচ্ছেন।'

'আমরা রাস্তায় শৃঙ্খলতা আনতে প্রফিট শেয়ারিং এর আদলে কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি যাতে বাসগুলোর মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব কমানো যায়। এটি চসিকের কাছে প্রক্রিয়াধীন। প্রকৃতপক্ষে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা আসলেই কঠিন কাজ,' বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমার সময়ে আমার ওপর কোনো চাপ ছিল না। আমি চাপমুক্তভাবেই দায়িত্ব পালন করেছি এবং করার চেষ্টা চালিয়ে গেছি।'

সিএমপিতে জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এখানে জনবল সংকট রয়েছে। বেশ কিছু ইউনিটকে শক্তিশালী করতে পুলিশ সদর দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে আরও সক্ষমভাবে গড়ে তুলতে এর জনবল বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে কারণ নিরাপত্তা ইস্যুতে এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তাদের আরও যোগ্য করে তুলতেই হবে।'

'কর্ণফুলী টানেলের দুই প্রান্তে ২টি নতুন থানা হচ্ছে যার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও ৪টি নতুন থানার কাজ চলমান রয়েছে,' বলেন তিনি।

সিএমপির বিদায়ী পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর আরও বলেন, 'আমি ও আমার টিম মিলে নগরীবাসীকে একটি অপরাধমুক্ত নগরী দিতে চেষ্টা করেছি। সফলতা কিংবা ব্যার্থতার বিচার করবেন শহরের মানুষ। আমি সফল নাকি ব্যর্থ তারাই ঠিক করবেন।'

যেসব পুলিশ কর্মকর্তাদের বাড়ি চট্টগ্রামে তাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'অনেকেই মনে করেন আমিই চটগ্রামের অফিসারদের সিএমপি থেকে বিদায় করেছি কিন্তু এটা সঠিক নয়। পুলিশের চাকরি বদলিজনিত চাকরি। আমি পুলিশ সদর দপ্তরকে এই বিষয়ে চিঠিও দিয়েছিলাম। তারা (চট্টগ্রামের অফিসাররা) চলে যাবার পর আমিই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি কাজের ক্ষেত্রে।'

'নতুন অফিসারদের নিয়ে কাজ গুছাতে সময় লেগেছে,' বলেন তিনি।

আজ মতবিনিময় সভায় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রসাশন ও অর্থ) সানা শামীমুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।