চট্টগ্রাম উন্নত হওয়া মানে পুরো বাংলাদেশের উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা এবং আমাদের বাণিজ্য নগরী হচ্ছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের উন্নয়ন করা আমাদের একটি দায়িত্ব বলে মনে করি। চট্টগ্রাম উন্নত হওয়া মানে পুরো বাংলাদেশের উন্নয়ন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানিসহ সব ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের অবদান আছে।'

আজ বুধবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় কর্ণফুলী নদীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'শিল্পায়ন হচ্ছে, খেয়াল রাখতে হবে এতে করে কর্ণফুলী, হালদা, সাঙ্গুসহ চট্টগ্রামে যে কয়টা নদী আছে, নদীগুলো যাতে দূষণ না হয়।'

'দূষণের হাত থেকে এসব নদীকে রক্ষা করতে হবে' উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কর্ণফুলীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। প্রত্যেকটা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট করতে হবে। সেগুলো যেন ঠিকমতো চলে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।'

'কর্ণফুলী যেন কোনোভাবে দূষিত না হয়, সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা কার্যকর করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। কর্ণফুলী নদীর পাশাপাশি অন্য নদীগুলোকেও রক্ষা করতে হবে।' বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'চট্টগ্রাম চমৎকার একটি এলাকা। এই এলাকার সৌন্দর্য-পরিবেশ রক্ষা করে যেন সামগ্রিক উন্নয়ন হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি আছে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে, যেন কোনোভাবেই আমাদের নদীগুলো দূষিত না হয়, এলাকা দূষিত না হয়।'

'চট্টগ্রামকে আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকি' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'চট্টগ্রামের মানুষের অনেক অসুবিধা ছিল, বিশেষ করে পানির অসুবিধা, হাহাকার ছিল। শুধু চট্টগ্রাম না বাংলাদেশর প্রায়ই জেলাতে এই সমস্যা ছিল। আমরা সরকারে আসার পর থেকে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, এই সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের অর্থনীতি বদলে গেলে তার প্রাণশক্তি হবে চট্টগ্রাম। এটা আমাদের বাণিজ্য নগরী। এক সময় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ছিল চট্টগ্রামে, কিন্তু ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো এসব প্রধান কার্যালয় ঢাকা নিয়ে এসেছে। যার কারণে চট্টগ্রাম অনেকটা অবহেলিত থেকে যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ যখন আবার সরকার গঠন করে তখন থেকে চট্টগ্রাম আবার প্রাণ ফিরে পায়।'

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু পানি শোধন করে চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। ভূ-গর্ভস্থ পানি থেকে আমাদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। কারণ আমাদের দেশ ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা।'

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো তাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ।