চীনে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণে’ বিমানের বোয়িং ৭৩৭

স্টার অনলাইন রিপোর্ট 

চীনে ১৩২ জন যাত্রী ও ক্রুসহ উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর বোয়িং ৭৩৭ বহরের ওপর 'বিশেষ পর্যবেক্ষণ' করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বিমানের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজগুলোর যান্ত্রিক অবস্থা, ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা, পরিচালনার ওপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

গতকাল সোমবার ১৩২ জন যাত্রী নিয়ে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ দক্ষিণ চীনে বিধ্বস্ত হয়। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফ্লাইটটি কুনমিং থেকে গুয়াংজু যাওয়ার সময় মাটিতে পড়ে আগুন ধরে যায়।

এরপর চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স তার বোয়িং ৭৩৭ বহরের সব উড়োজাহাজ পরিচালনা আপাতত স্থগিত করেছে।

ভারতের উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতোমধ্যেই তাদের বোয়িং ৭৩৭ বহরের ওপর 'অতিরিক্ত নজরদারি' শুরু করেছে।

অন্যান্য দেশের মতো বিমানের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের বহর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বাংলাদেশ বিমান বিশ্বের বাইরের কিছু নয়। বিভিন্ন দেশের মতো আমরাও আমাদের বোয়িং ৭৩৭ এর বহর নজরদারির মধ্যে রেখেছি।'

তিনি বলেন, 'ফ্লাইটের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমরা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।'

বাংলাদেশ বিমানের মোট ২১টি উড়োজাহাজ আছে। এর মধ্যে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ৪টি বোয়িং ৭৮৭-৮, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৫টি ডি হ্যাভিল্যান্ড কানাডা ডিএইচসি-৮।

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং জানিয়েছে, তারা চীনে উড়োহজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তে সহায়তা করছে এবং মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড ক্যালহাউন বিবিসিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'দুর্ঘটনার পর থেকে আমরা আমাদের গ্রাহক এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি এবং চীনের সিভিল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নেতৃত্বে এ ঘটনার তদন্তে আমাদের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের পূর্ণ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি।'

অ্যাভিয়েশন অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এর ৪ হাজার ২০৮টি উড়োজাহাজ বর্তমানে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করছে, যার এক চতুর্থাংশেরও বেশি চীনে।

১৯৯০ এর দশকের শেষ দিকে প্রথম বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নির্মাণ শুরু হয়। এই মডেলের উড়োজাহাজগুলো বেশ নিরাপদ বলেই বিবেচনা করা হয়।

তবে সোমবার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি তৈরি হয়েছে ৭ বছরও হয়নি। তদন্তকারীরা গুয়াংজি পাহাড়ের জঙ্গলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং উড়োজাহাজের 'ব্ল্যাক বক্সের' খোঁজ করছে।

এর আগে বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ ২ বার মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়। ওই ২ দুর্ঘটনায় মোট ৩৪৬ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হয়েছিল।