ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার অন্তত ১৬ গ্রামের মানুষকে ব্যবহার করতে হয় সেতুটি। গ্রামগুলো থেকে উপজেলা সদর কিংবা জেলা সদরে যেতে অপরিহার্য সেতুটির ২ পাশে আছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সেতুটি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
উপজেলার লস্করদিয়া ও তালমা ইউনিয়নের মাঝে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর এ সেতুটি মাঝিকান্দি সেতু হিসেবে পরিচিত।
১২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের সেতুটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। লোহার পাতের উপরে কনক্রিট দিয়ে ছোট ছোট ১২০টি পাটাতনসহ নির্মাণ করা হয়েছে সেতুটি। লোহার ১১টি পিলারের উপর সেতুটি তৈরি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ৪টি পিলারে মরিচা পড়েছে। একটি রেলিং ভেঙে গেছে। সেতুর মাঝামাঝি জায়গায় ৭টি পাটাতন এবড়ো-থেবড়ো অবস্থায় আছে।
এর মধ্যে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সেতুর আশেপাশের গ্রামগুলোর অন্তত ৩ হাজার মানুষকে প্রতিদিন প্রাত্যহিক কাজে পার হতে হয় সেতুটি। এই সেতু দিয়ে, নসিমন, ইজিবাইক, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল করে। রিক্সা বা ভ্যানে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হয়। শিশুরা পাটাতনের গর্ত দিয়ে পানিতে পড়ে যায় বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, কদমতলী, সাভার, চাপখন্ড, শাকপালদিয়া, রসুলপুর মিয়ার গ্রাম, জয়পপুর এলাকার বাসিন্দাদের এই সেতু দিয়েই বিনোকদিয়া মাঝিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, মাঝিকান্দা বাজার এলাকায় যেতে হয়।
কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা ভ্যান চালক মাসুদ মোল্লা (২২) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই সেতু দিয়ে ভ্যান নিয়া আসলে বিপদে পড়তে হয়। যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার পরও পেছন থেকে না ঠেললে টেনে নিয়ে যাওয়া যায় না।'
মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সোবাহান (২৪) বলেন, 'গত ১০ বছর ধরে সেতুর এই অবস্থা। ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বার বার গিয়েও কোনো কাজ হয়নি।'
জানতে চাইলে তালমা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাকে এই সেতু দিয়েই চলাচল করতে হয়। এটা তো আমার নিজেরই পথ। আমি নিজেই তো এর ভুক্তভোগী।'
স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন করে এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।
যোগাযোগ করা হলে নগরকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মাঝিকান্দিতে পুরোনো সেতুর জায়গায় নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ৩৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ২ মিটার প্রস্থের সেতুর নকশা করা হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, সাড়ে ৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন মূল্য ধরে নতুন সেতুর নকশা এলজিইডি ঢাকার প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।