টিপ পরায় হয়রানি: পুলিশ সদস্যের শাস্তি দাবি ঢাবি শিক্ষক সমিতির
কপালে টিপ পরায় তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে হেনস্তা করা পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি। তারা বলেছেন, এ ধরনের অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সভ্য সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।
সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূইয়ার সই করা বিবৃতিতে এই কথা বলা হয়।
তারা বলেছেন, এ ঘটনায় সর্বস্তরের নাগরিকদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান সরকার যেখানে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজের সর্বস্তরে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ ভেদাভেদ দূর করে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে; ঠিক সে সময়ে সরকারের পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য--যিনি নারীর নিরাপদ গমনাগমন নিশ্চিত করতে তৎপর থাকার কথা, তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা আরও বলেন, ওই ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী গত শনিবার সকালে লতা সমাদ্দার বাসা থেকে কলেজে যাচ্ছিলেন। তার কপালে টিপ পরা ছিল। মোটরসাইকেলে বসা একজন পুলিশ সদস্য ঐ শিক্ষককে দেখেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন এবং 'টিপ পরছোস কেন' বলে কটূক্তি করেন। ওই শিক্ষক এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন এবং তার পায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আমরা মনে করি এ ধরনের অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সভ্য সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না। একজন ব্যক্তির বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায়ভার কোনো প্রতিষ্ঠান বহন করবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি।
আইন রক্ষাকারী বাহিনীতে এ ধরনের অপরাধ মনোবৃত্তি সম্পন্ন ব্যক্তির উপস্থিতি অবাঞ্ছিত। আমরা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপরাধীকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

