ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ সমাবেশ

স্টার অনলাইন নিউজ

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, গাইবান্ধার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সাদিকুল মাস্টারসহ ৭ নেতার মুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আজ মঙ্গলবার শাহবাগ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলের সঞ্চালনায় সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহিন হোসেন প্রিন্স আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। 

তিনি মিহির ঘোষের মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, 'চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড মিহির ঘোষসহ গাইবান্ধার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলা মূলত সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিউনিস্টদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। গাইবান্ধার সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সরকারের অনিয়ম দুর্নীতিসহ মিহির ঘোষের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন হামলা-মামলা করে কমিউনিস্টদের কণ্ঠরোধ করা যায় না। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন থামানো যায় না।'

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা এবং যুব ইউনিয়নের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর আলম নান্নু তার বক্তব্যে বলেন, 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি গণবিরোধী আইন, এই আইন দেশের সচেতন প্রতিবাদী মানুষকে দাবিয়ে রাখার আইন। দ্রুত এই আইন বাতিল করে, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানাই।'

সভাপতির বক্তব্যে মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন, 'আজ আমরা শুধুমাত্র মিহির ঘোষের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছি না, আমরা আন্দোলন করছি সারাদেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণকারী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, রাজনীতিবিদসহ সব মানুষের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে। আপনারা দেখেছেন এই আইনে গ্রেফতার লেখক মুশতাক আহমেদকে কীভাবে কারানির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, আপনাদের মনে আছে কার্টুনিস্ট কিশোরের কথা, সাংবাদিক শহিদুল আলমের কথা। সংবিধান পরিপন্থি এই আইনের মাধ্যমে সচেতন প্রতিবাদী মানুষদের মুখ বন্ধ করে সারাদেশে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে এই সরকার।'

তিনি আরও বলেন, 'সাধারণ মানুষকে দমন পীড়নের মাধ্যমে সরকার যে স্বৈরাচারী কাঠামো তৈরি করেছে, সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সেই কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।' 

এ ছাড়া মিহির ঘোষসহ সব নেতাকর্মীর মুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসাবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় পুরান পল্টন মোড়ে প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর মশাল মিছিলে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি কে এম মুত্তাকী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি রেজোয়ান হক মুক্ত, ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক লাভলী হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতা কাজী রাকিবসহ অনেক।