‘ত্বকী হত্যার বিচারের লড়াই বাংলাদেশকে মুক্ত করার লড়াই’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, খুনিরা ভেবেছিল ত্বকীর বাবা এবং তার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের উজ্জ্বল মানুষদের থামিয়ে দেওয়া যাবে। তারা হিংস্রভাবে দানবীয় কায়দায় ত্বকীকে খুন করে দেখাতে চেয়েছিল, তারা কতটা বর্বর। কিন্তু মানুষ ভয় না পেয়ে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, 'ভয়কে পরাজিত করে নারায়ণগঞ্জবাসীর লড়াই সারা বাংলাদেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। সরকার গায়ে পড়ে খুনির দায় নিজেদের ঘাড়ে নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের খুনের বিচার যদি যথানিয়মে হয়, তাহলে সরকারের কোনো দায় থাকে না। কিন্তু এই খুনিদের রক্ষার জন্য যদি সরকার চেষ্টা করে, সংসদে বক্তব্য দিয়ে তাদেরকে রক্ষার চেষ্টা হয়, তাহলে এই খুনের দায় সরকারের উপরেই পড়ে। সরকার যতদিন খুনিদের রক্ষা করবে ততদিন এই সরকার খুনি হিসেবে চিহ্নিত হবে।'
আজ শুক্রবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ৯ বছর উপলক্ষে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পরে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, 'আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, যারা খুন হচ্ছে তাদের চেহারা ভোলা যাবে না। যারা খুনি তাদের কথাও ভোলা যাবে না। যারা জুলুম করছে প্রতিটি জুলুম মনে রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ দায়িত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। খুনি-দখলদারদের বিরুদ্ধে আওয়াজ ক্রমান্বয়ে জোরদার করতে হবে। তাহলেই খুনি-দুর্বৃত্তদের শাসন-আধিপত্য এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মতো সরকারের হাত থেকে এই দেশকে মুক্ত করতে পারব। ত্বকী হত্যার বিচারের লড়াই বাংলাদেশকে মুক্ত করার লড়াই।'
তিনি বলেন, 'ত্বকী হত্যার বিচারের যে আন্দোলন, এটা শুধু ত্বকী হত্যার বিচারের জন্য না, এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য। যারা স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকতে চান, যে শিশু-কিশোররা স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠার স্বপ্ন দেখে, তাদের সকলের জন্যই ত্বকী হত্যার বিচারের আন্দোলন শক্তি যোগায়। ত্বকীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের পরিচয় সারাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংস্করণ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যাকারীরা। এই ধরনের গোষ্ঠীকে কেন আশ্রয় দেওয়া হয়, সেই প্রশ্নটায় বার বার ঘুরে ফিরে আসে। নারায়ণগঞ্জে ত্বকীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, পরিষ্কার নাম এসেছে, তারপরও বিচার হয় না।'
'সরকার তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ায়, পক্ষ নেওয়ার কারণে বিচার হয় না। কিন্তু তাদেরকে সরকার কেন পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। এর কারণ এই দেশে যারা সরকার চালাচ্ছে তারা জনগণের ওপর নির্ভর করে না। জনগণের মত-স্বার্থ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকে দেশি-বিদেশি খুনি-দখলদার-লুটেরাদের সমর্থনে। সেজন্য তাদের রক্ষা করা সরকার দায়িত্ব মনে করে। তারা মনে করে খুনি-দখলদার-লুটেরাদের ওপর ভর করে এ দেশে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবে। এজন্য আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশ সারাদেশের প্রতিবাদ সমাবেশ। এই প্রতিবাদ সমাবেশ বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ', যোগ করেন তিনি।
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম এবং জেলা সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।